ভিয়েতনামে রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর হাত দিয়ে সরিয়ে দেওয়া বা 'চড়' মারার ঘটনা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা উঠে এসেছে।
সাংবাদিক ফ্লোরিয়ান তারদিফের লেখা ‘অ্যান (অলমোস্ট) পারফেক্ট কাপল’ বইয়ে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার মূলে ছিল এক অভিনেত্রীর পাঠানো টেক্সট মেসেজ।
গত বছর হ্যানয় বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার সময় ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্তে দেখা যায়, ব্রিজিত ক্ষুব্ধভাবে ম্যাক্রোঁর মুখে হাত দিয়ে ঠেলে দিচ্ছেন।
লেখক তারদিফের দাবি, নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী গোলশিফতেহ ফারাহানির একটি বার্তা ম্যাক্রোঁর ফোনে দেখে ফেলেন ব্রিজিত। ওই বার্তায় ম্যাক্রোঁ অভিনেত্রীকে ‘সুন্দরী’ বলে প্রশংসা করেছিলেন।
বইটিতে বলা হয়, ব্রিজিত আশঙ্কা করেছিলেন তার স্বামী হয়তো তাকে ছেড়ে ওই অভিনেত্রীর কাছে চলে যেতে পারেন।
তবে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ সরাসরি এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিমানযাত্রায় প্রচণ্ড কম্পনের কারণে তিনি ঘুমাতে না পেরে ক্লান্ত ছিলেন। সে সময় ম্যাক্রোঁ তাকে পানি ছিটিয়ে হাসানোর চেষ্টা করলে তিনি বিরক্ত হয়ে তাকে সরিয়ে দেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি কখনোই স্বামীর ফোন তল্লাশি করেন না। এলিসি প্রাসাদ থেকে শুরুতে ভিডিওটিকে ভুয়া বলার চেষ্টা করা হলেও ম্যাক্রোঁ এটিকে ‘দম্পতিদের খুনসুটি’ বলে উড়িয়ে দেন।
অভিনেত্রী গোলশিফতেহ ফারাহানিও এই গুঞ্জন অস্বীকার করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সম্পর্ককে নিছক বন্ধুত্ব বা ‘প্লেটোনিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, ফারাহানি ২০০৮ সালে হিজাব ছাড়া হলিউড সিনেমায় অভিনয় করে ইরান থেকে নির্বাসিত হন এবং ফ্রান্সে আশ্রয় নেন।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে ফ্রান্সের ভূমিকার সমালোচনা করতে গিয়ে এই চড়ের প্রসঙ্গ তুলে ম্যাক্রোঁকে কটাক্ষ করেছিলেন।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ম্যাক্রোঁ এখনো তার স্ত্রীর ঘুষির আঘাত সামলে উঠতে পারেননি। জবাবে ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অসভ্য’ ও গুরুত্বহীন বলে অভিহিত করেন।
ফ্রান্সের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যক্তিগত গুঞ্জন ফরাসি ভোটারদের কাছে ম্যাক্রোঁর জনপ্রিয়তায় বড়ো প্রভাব ফেলবে না। বরং এটি তার ‘নারীদের প্রতি অনাগ্রহ’ সংক্রান্ত পুরোনো গুঞ্জন কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বইটির লেখক দাবি করেছেন, বইয়ে যা লেখা হয়েছে তার সবই সত্য এবং তিনি ব্রিজিতের সাথে কথা বলেই এটি লিখেছেন।
সূত্র : দ্য টাইমস
সময়ের আলো/জেডি