প্রেমের সম্পর্ক পরিবার মেনে না নেওয়ায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে নিজের বাবার বাড়িতেই এক দুঃসাহসিক ডাকাতির পরিকল্পনা করেছেন ২১ বছর বয়সী এক তরুণী। ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে গত ১১ মে ভোরে পিতল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরানের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ব্যবসায়ীর ছোট মেয়ে আরিবা নিজেই ডাকাত দলকে ঘরে প্রবেশের পথ করে দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় শুক্রবার (১৫ মে) আরিবা, তার প্রেমিক আরশাদ ওয়ারসি এবং তাদের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে মোরাদাবাদের আকবর কম্পাউন্ড এলাকায় ব্যবসায়ী ইমরানের বাড়িতে এই ডাকাতি সংঘটিত হয়। সশস্ত্র ডাকাত দল ঘরে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে ফেলে এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ রুপি লুট করে নিয়ে যায়।
প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তারা সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরটিও সঙ্গে নিয়ে দুটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় বাড়িতে ইমরান, তার স্ত্রী এবং চার সন্তান উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে মোরাদাবাদের সিনিয়র পুলিশ সুপার সতপাল আনতিল তদন্তে দেখতে পান, বাড়ির কোনো দরজা বা ডিজিটাল লক ভাঙা হয়নি, যা থেকে পরিবারের ভেতরের কারও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আরিবা স্বীকার করেন, অমিরোহা এলাকার আরশাদের সঙ্গে তার দীর্ঘ আট বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ভিন্ন জাতের হওয়ার কারণে তার বাবা এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। নতুনভাবে জীবন শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতেই তিনি এই ডাকাতির ছক কষেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি এক মাস আগেই আরশাদকে বাড়ির প্রধান ফটকের একটি নকল চাবি দিয়েছিলেন এবং ঘটনার রাতে সবার অলক্ষ্যে ডিজিটাল লকটি খুলে দিয়ে ডাকাতদের ভেতরে ঢোকার সুযোগ করে দেন।
অভিযান চালিয়ে পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৪৭ লাখ ২৪ হাজার রুপি নগদ, চারটি দেশি পিস্তল, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং দুটি গাড়ি উদ্ধার করেছে। গ্রেফতারকৃত অন্য সহযোগীরা হলেন কুলদীপ সিং, রবি কুমার ও নিক্কি সিং।
পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারসহ এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত পাঁচজনই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সময়ের আলো/টিএইচ