ওমানে নিহত ৪ সহোদরের মরদেহ দেশে আসছে মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাস

ওমানে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার সহোদরের মরদেহ মঙ্গলবার

2026-05-15T19:12:29+00:00
2026-05-15T19:12:29+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রবাস
ওমানে নিহত ৪ সহোদরের মরদেহ দেশে আসছে মঙ্গলবার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৭:১২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ওমানে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার সহোদরের মরদেহ মঙ্গলবার (১৯ মে) দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।ওমানে দীর্ঘ এক যুগের প্রবাসজীবনে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর যে স্বপ্ন তারা বুনেছিলেন, তার এমন করুণ পরিণতিতে পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। নিহতরা হলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দাররাজা পাড়ার প্রয়াত মোহাম্মদ হাসানের চার ছেলে—রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ।

ওমান পুলিশ ও প্রাথমিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার ভাই বুধবার সন্ধ্যায় বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। রাত ৮টার দিকে তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজে জানিয়েছিলেন যে তারা প্রচণ্ড অসুস্থ বোধ করছেন এবং গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থায় নেই। পরবর্তীতে মুলাদ্দাহ এলাকার একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। 

চিকিৎসকদের ধারণা, দীর্ঘ সময় গাড়িটি চালু অবস্থায় স্থির থাকায় এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই গ্যাসে দমবন্ধ হয়েই চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় ভাই রাশেদুল ইসলামের হাত ধরেই অন্য তিন ভাই ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গ্রামে তৈরি হয়েছিল পাকা বাড়ি, ফিরতে শুরু করেছিল সচ্ছলতা। নিহতদের মধ্যে সিরাজ ও শহিদ অবিবাহিত ছিলেন এবং দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে আগামী ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। 

দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার আনন্দে পরিবারে উৎসবের প্রস্তুতি চললেও সেই আনন্দ এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে। নিহত বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে; অন্য এক ভাইও সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে ফিরেছিলেন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বর্তমানে একমাত্র জীবিত ভাই দেশেই অবস্থান করছেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইতোমধ্যেই শোকসন্তপ্ত পরিবারটির সঙ্গে দেখা করেছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। 

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে মরদেহগুলো স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ হলে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। মঙ্গলবার মরদেহ দেশে আসার খবর পাওয়ার পর থেকে নিস্তব্ধ হয়ে আছে পুরো গ্রাম।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
প্রবাস- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: