গুলশানের এলিট কনভেনশন সেন্টারে ৯ ও ১০ মে দুদিনব্যাপী ‘পাওয়ার অব শি : ওমেন সামিট অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, সৃষ্টিশীল মানুষ ও তরুণীদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি হয়ে ওঠে নারীর স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শি লিডস, শি শাইনস’। আয়োজনে পৃষ্টপোষক হিসেবে ছিল জাদুব, আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
বর্তমান সময়ে নারীরা শুধু পরিবার বা কর্মক্ষেত্রেই নয়, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ফ্যাশন, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সামিট জুড়ে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা, মাস্টারক্লাস, নেটওয়ার্কিং সেশন ও প্রদর্শনীর। অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন খাতের সফল নারী উদ্যোক্তা, করপোরেট ব্যক্তিত্ব, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল উদ্যোক্তা এবং তরুণ উদ্ভাবকরা।
প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘নারীর চোখে অর্থনীতি’ শীর্ষক আলোচনা। সেখানে বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে, নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও আরও শক্তিশালী করছে।
অনুষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাবিনা স্যাবি বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে আমাদের যাত্রা শুরু। শুরুতে আমরা নারীদের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করেছি। পরে মানসিক স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়েও কাজ শুরু করি। পাওয়ার অব শি মূলত এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নারীরা নিজেদের সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারবেন, নিজেদের কাজ সবার সামনে তুলে ধরতে পারবেন। একই সঙ্গে আমরা চাই দেশীয় পণ্য ও নারী উদ্যোক্তাদের বিশ্ব দরবারে পরিচিতি তৈরি হোক।’
দ্বিতীয় দিনের আয়োজন ছিল মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মবিশ্বাসবিষয়ক সেশন। আধুনিক জীবনের চাপ, পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের ভারসাম্য এবং নারীদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের সামনে তুলে ধরা হয় নতুন ব্যবসার সুযোগ, ব্র্যান্ডিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সফল হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা।
সামিটজুড়ে ছিল দেশীয় ফ্যাশন, হ্যান্ডিক্রাফট, স্কিনকেয়ার, লাইফস্টাইল ও নারী পরিচালিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টল- ট্যান, আজুরা, বক্স অব অরনামেন্টস, সিগনেট, বিদুরা, দয়ীতা প্রভৃতি। ফলে এটি শুধু আলোচনানির্ভর আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নিজেদের কাজ তুলে ধরার কার্যকর প্ল্যাটফর্মেও পরিণত হয়। দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অঙ্গনের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন গাইনি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ফৌজিয়া হোসেন, ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিউটিক্যালসের মার্কেটিং ম্যানেজার ডা. সুরুভী সালেম, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সঙ্গীতা খান, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল ও লিপি খন্দকার, এসএমই ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফারজানা খান, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মেহাতাব খানম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর প্রফেসর ডা. মালিতা মেহেজাবিন প্রমুখ।
নারী উদ্যোক্তা, করপোরেট লিডার, ফ্যাশন ডিজাইনার, মোটিভেশনাল স্পিকার ও সামাজিক সংগঠকরা। তারা নারীর আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, মানসিক সুস্থতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান সময়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নানা আলোচনা হলেও বাস্তবমুখী উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। সেই জায়গা থেকে পাওয়ার অব সী শুধু একটি সামিট নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বেশি নারীকে স্বপ্ন দেখতে ও নিজেদের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহস জোগাবে বলেই প্রত্যাশা।