মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবার আগে ইসরায়েলের ক্রমাগত উসকানি ও আগ্রাসী মনোভাব সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেল আবিব মূলত নিজের সংকীর্ণ রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য চলমান যুদ্ধকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার এক বিপজ্জনক চেষ্টা চালাচ্ছে।
শুক্রবার (১৫ মে) কাজাখস্তান সফর শেষে দেশে ফেরার পথে বিমানের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার (১৬ মে) তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এরদোয়া্নের এই বক্তব্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়। তুর্কি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রধান চালিকাশক্তি হলো ইসরায়েলের এই অন্তহীন উসকানি, যা বন্ধ করা না গেলে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত ও মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রথমত, ইসরায়েলের উসকানিকে যেকোনো মূল্যে নিষ্ক্রিয় ও বন্ধ করতে হবে এবং তারপরেই কেবল সেখানে একটি প্রকৃত ও স্থায়ী শান্তির ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব।’
তিনি বিশ্বনেতৃত্বকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি এই অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হয়, তবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সব পক্ষকে নিজেদের সাময়িক বা স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি সরিয়ে রাখতে হবে।
প্রতিটি দেশের উচিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা কোনো শক্তির স্বার্থ রক্ষা না করে, বরং নিজেদের সাধারণ নাগরিকদের জানমালের অধিকার রক্ষা করা। এরদোয়ান স্পষ্ট জানান, তুরস্ক এই আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল সংকটে রূপ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে কূটনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, তবে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর সমাধান মূলত এই অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদেরই উদ্যোগী হয়ে করতে হবে।