ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি বলেন, ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে, যেকোনো ভুল হিসাব থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
ইরানের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার তেহরানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৯ জুলাই মাশহাদে তাকে দাফনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
খামেনির মৃত্যুর চার মাসের বেশি সময় পর দাফনের আয়োজন হওয়ায় তার মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি, বরং শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ইসলামে রাসায়নিকভাবে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি না থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে শিয়া ইসলামী আইন অনুযায়ী দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
এদিকে, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দেশটির কর্মকর্তাদের ধারণা, দেশ-বিদেশ থেকে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ এ আয়োজনে অংশ নিতে পারেন।
খামেনির মৃত্যুতে ইরানজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে তার ছবি সংবলিত পোস্টার ও বিশাল বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সময়ের আলো/এসএকে