‘যারা ব্যাংক খাতে সমস্যা তৈরি করেছে, তাদের ফেরাতে আইনে পরিবর্তন কেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

দেশের ব্যাংক খাতের সংকট সমাধান না হলে অর্থনীতির ধস ঠেকানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন

2026-05-16T19:59:34+00:00
2026-05-16T19:59:34+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
‘যারা ব্যাংক খাতে সমস্যা তৈরি করেছে, তাদের ফেরাতে আইনে পরিবর্তন কেন’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দেশের ব্যাংক খাতের সংকট সমাধান না হলে অর্থনীতির ধস ঠেকানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, এ সংকট থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জরুরি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যারা ব্যাংক খাতে সমস্যা তৈরি করেছে, তাদের আবার ফেরাতে আইনে নতুন ধারা কেন? শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘দেশের ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয়; প্রেক্ষিত ইসলামী ব্যাংকিং খাত: জাতীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত এ সেমিনারে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক, পেশাজীবী এবং ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি নিয়ে মতভেদ থাকলেও ছয়টি বিষয়ে সবাই একমত। এগুলো হলো, অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, কলুষিত নীতি সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করেছে, আমানতকারীরা নীরবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান স্থবির হয়ে পড়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে এবং সংকটের টেকসই ও নৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনেক গ্রাহক ব্যাংকে জমা রাখা নিজেদের অর্থ তুলতে পারছেন না। তাই গ্রাহকের আস্থা ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নৈতিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সংকট সমাধান না হলে সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। এজন্য পেশাদারি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বক্তব্য দেন ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনউদ্দীন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া ব্যাংক খাতের সংস্কার সম্ভব নয়। ব্যাংক খাতে যারা লুটপাট করেছে, তাদের হিসাব আলাদা করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংক খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতে লুটপাটের কারণেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংক দখল নিয়ে যা বের হচ্ছে, তা দিয়ে থ্রিলার সিনেমা তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের নতুন ধারা বাতিলের দাবি জানান।

সেমিনারে অংশ নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহক ও পেশাজীবী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল। তারা বলেন, মাত্র ২ শতাংশ শেয়ার থাকলেই একটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। বক্তারা গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।

তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকে আবারও অস্থিরতা তৈরি হলে ব্যাংকটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। প্রয়োজনে গ্রাহকেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আরবিএন 


  বিষয়:   তত্ত্বাবধায়ক সরকার  উপদেষ্টা  হোসেন জিল্লুর রহমান 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: