কুষ্টিয়া সদরের পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের সোহাগ (২৪) ও সাইফুল (৩৫) নামের দুই যুবককে অপহরণ করে একটি বাসায় আটকে রেখে মারধর এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ওই এলাকায় একটি বাসা থেকে দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার ঘোনাপাড়া এলাকার এনামুল মোল্লা (৩২), কুষ্টিয়া কুমারখালী থানার বেড় কালোয়া এলাকার ইমরান হোসেন ওরফে রাসেল (৩১), এবং সদর থানার কালিশংকরপুর এলাকার নুহাশ হাসান (২০)।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরের নেতৃত্বে এসআই কামরুল ইসলাম, এসআই মো. সামসুল আলম, এসআই আব্দুল আলিমসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সোহাগ ও তার বন্ধু সাইফুল শনিবার বিকেলে পটুয়াখালী থেকে বাসে কুষ্টিয়া মজমপুর গেটে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আসামিরা ও তাদের সহযোগীরা তাদের অপহরণ করে নুহাশ হাসানের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর করে পরিবারের কাছে ফোনের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এ সময় সোহাগের বিকাশ নম্বর থেকে ১৭ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে আনান আসামিরা। এরপর আরও টাকা দাবি করে দুই ভিকটিমকে মারধর অব্যাহত রাখা হয়। এই পরিস্থিতিতে ভিকটিমদের পরিবার বাধ্য হয়ে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির ভিত্তিতে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে দুই ভিকটিমকে উদ্ধার এবং তিনজন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকলেও তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
সোহাগের বাবা আবু হানিফ বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেছেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই