বড় ধরনের নির্বাচনী ব্যর্থতার পর ব্রিটিশ লেবার পার্টির সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো এমন একজন নতুন নেতা নির্বাচন করা, যিনি প্রগতিশীল শক্তিগুলোর জোটকে একত্র করতে পারবেন।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রধান সম্পাদক ডেভিড হার্স্ট এক প্রতিবেদনে ব্রিটেনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এক বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নিউ লেবার’ প্রকল্পটি দুইবার লেবার পার্টির জন্য বড় ক্ষতি করেছে— একবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যকে ইরাক যুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার সময় এবং এখন কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে।
অন্যান্য লেবার সংকটের মতো নয়— যেমন ১৯৮১ সালে ‘গ্যাং অব ফোরের’ দলত্যাগ বা ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোট— নিউ লেবারকে লেখক লেবার ব্র্যান্ডের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করেছেন।
তার মতে, দলটি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দলীয় ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালিয়েছে। তারা শুধু ট্রেড ইউনিয়ন ও বামপন্থীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয়নি, বরং মতাদর্শগত কারণে নির্বিশেষে নিজেদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো অনেককেই দল থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
ডেভিড হার্স্ট উল্লেখ করেন, সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনের সময়েও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জাতীয় রাজনীতিতে ফেরার পথও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
স্টারমারের এক পুরোনো বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি দলীয় পরিবর্তনের সমালোচকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, যদি আপনারা এসব পরিবর্তন পছন্দ না করেন, তাহলে দরজা খোলা আছে, আপনারা চলে যেতে পারেন।
এই নীতির ফলে ২০১৯ সালে সদস্য সংখ্যা ৫ লাখের বেশি থাকলেও পরবর্তীতে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেভিড হার্স্ট আরও বলেন, ব্লেয়ার ও স্টারমারের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রবণতা দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট বাড়িয়েছে। ইরাক যুদ্ধের সময় ব্লেয়ার এবং গাজা ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে স্টারমারের অবস্থান— দুটোকেই তিনি উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, লেবার পার্টি এখন একটি বিভক্ত ও দুর্বল অবস্থায় আছে, যেখানে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং বামপন্থী ঐক্যই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার এক ‘রিসেট’ ভাষণে— যার রাজনৈতিক প্রভাব বক্তৃতা শেষ হওয়ার সাথেসাথেই ফুরিয়ে যায়— কিয়ার স্টারমার দাবি করেন যে তিনি ‘বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো’ সঠিকভাবে নিয়েছেন। তবে সাবেক নেতা জেরেমি করবিন পরে পোস্ট করে বলেন, এসব সিদ্ধান্ত আসলে ভুল ছিল।
সমালোচকদের মতে, সরকার দেশের অর্থনৈতিক ঘাটতি আরও বাড়িয়ে তুলছে। তারা বলছে, সরকার গ্রিন নিউ ডিল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জলখাতকে জনগণের মালিকানায় আনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে এবং শিশু দারিদ্র্য মোকাবেলায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নিয়ে দুই-সন্তান বেনিফিট সীমা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়া সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে অভিবাসী ও শরণার্থীদের দায়ী করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ডেভিড হার্স্ট আরও দাবি করেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে স্টারমারের শুরুতে অনীহা এবং লেবার পার্টির কোনো কর্মকর্তাকে বিক্ষোভে অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত, একই ধরনের নীতিগত অবস্থানের প্রতিফলন। গাজায় ইসরায়েলের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করার বিষয়ে তার অবস্থানকেও সমালোচনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখকের মতে, এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এগুলো সরকারের বৃহত্তর ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
‘ব্যক্তিগত প্রত্যাখ্যান’
প্রতিবার ‘নিউ লেবার’ রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হলে তার প্রভাব ছিল ধ্বংসাত্মক। দলটি যেন বিস্ফোরিত শেলের মতো হয়ে পড়ত— নীরব, স্তব্ধ এবং দিকহীন। তারা কেবল ভোটারদেরই হারায়নি, বরং নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ও হারিয়েছে। দলটি আসলে কী প্রতিনিধিত্ব করে, তা স্পষ্ট থাকত না।
সাম্প্রতিক স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে, যেখানে লেবারের শক্ত ঘাঁটি এবং ‘রেড ওয়াল’ অঞ্চলগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ে, সেই নির্বাচন কেবল স্থানীয় ছিল না— এটি কার্যত একটি জাতীয় গণভোটে পরিণত হয়েছিল। প্রশ্ন ছিল : ‘আপনি কি কিয়ার স্টারমারকে আরও তিন বছর ব্রিটেনের নেতৃত্বে চান?’ এবং লেখকের মতে, উত্তর ছিল স্পষ্টভাবে ‘না’।
ডেভিড হার্স্ট বলেন, আশার দিক হলো ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে কিছু বামপন্থী ও প্রগতিশীল দল রয়েছে, যারা ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানও নেয়। কিন্তু ইংল্যান্ডে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন— সেখানে রিফর্ম ইউকে আগামী সরকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এটি থামাতে হলে একটি বিস্তৃত বামপন্থী জোট প্রয়োজন এবং লেবারের ডানপন্থী অংশ একা তা করতে পারবে না।
তার মতে, বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার গ্রিন পার্টি নয়, বরং রিফর্ম ইউকের উত্থানের পথই তৈরি করবে।
ব্রিটেনের শীর্ষ জনমত জরিপ বিশ্লেষক জন কার্টিসের পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে বলা হয়, রিফর্ম ইউকে মূলত সেই সব এলাকায় শক্তি বাড়াচ্ছে, যেগুলো ব্রেক্সিট গণভোটে ‘লিভ’ পক্ষকে সমর্থন করেছিল। একই সময়ে লেবার পার্টির ভোট কমা এবং কিছু সমর্থকের গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়া— এসবই স্টারমারের নেতৃত্বের ফল হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
লেখক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সঙ্গেও তুলনা টানেন, যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের প্রচারণায় ডেমোক্র্যাটরা যেমন দ্রুত সমর্থন হারিয়েছিল, তেমনি লেবারও সমর্থন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
লন্ডনের হ্যারিঞ্জি বরোতে প্রচারণার সময় লেবার কর্মীরা ভোটারদের ক্ষোভ ও বিরক্তি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
লেখক আরও বলেন, গ্রিন পার্টি অনেক এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালায়নি, তবুও অনেক ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোট দিয়েছে— যা মূলত লেবার নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষের ফল।
তার মতে, স্টারমারের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তিনি কিছু মানুষের মধ্যে তীব্র ব্যক্তিগত বিরাগ সৃষ্টি করেছেন, যা একজন রাজনীতিবিদের জন্য অস্বাভাবিক।
লেখক শেষ করেন এই বলে যে, স্টারমারের সময়ে পুলিশিং, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, ভবিষ্যতে সেগুলো রাজনৈতিকভাবে কীভাবে ব্যবহার হবে— বিশেষ করে রিফর্ম ইউকে ও নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বে একটি সম্ভাব্য সরকার— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়।
‘ইসরায়েলের দীর্ঘ ছায়া’
ডেভিড হার্স্টের মতে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের শাসনামলের সবচেয়ে বিতর্কিত ও জটিল দিকগুলোর একটি হলো ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক— এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থান।
লেখকের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লেবার পার্টি ইসরায়েল ইস্যুতে অনেক ক্ষেত্রে ডানপন্থী লিকুদ পার্টির কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে— যা জেভ জাবোটিনস্কির কঠোর জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শনের ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মতাদর্শগত প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
স্টারমারের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলেও লেখকের মতে এটি মূলত প্রতীকী বা ‘অঙ্গভঙ্গির রাজনীতি’ ছিল। গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে সরকার কার্যত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের অবস্থানকেই সমর্থন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
লেখক আরও বলেন, গাজা যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছিল, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। জানুয়ারি ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজায় গণহত্যার ‘গুরুতর ঝুঁকি’ সম্পর্কে সতর্ক করার পরও এই নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, স্টারমার সরকারের সময়ে গাজার আকাশে ১৫ মাসে অন্তত ৫১৮টি গোয়েন্দা নজরদারি বিমান পাঠানো হয়েছে। সরকার অবশ্য বলেছে, এসব মিশনের উদ্দেশ্য ছিল জিম্মিদের খোঁজ করা। তবে সমালোচকদের দাবি, যুদ্ধবিরতির সময়েও এই নজরদারি অব্যাহত ছিল।
এছাড়া বলা হয়, আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য ইসরায়েলকে প্রায় ১৬৯ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম রফতানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরঞ্জামকে ‘বোমা, গ্রেনেড, টর্পেডো, মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র’ ধরনের শ্রেণিতে রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সংসদে বলেন, যুক্তরাজ্য থেকে যেসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়, তার বড় অংশই প্রতিরক্ষামূলক— যেমন হেলমেট বা সুরক্ষা সামগ্রী— এবং সবকিছুকে সরাসরি অস্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।
তবে লেখকের দাবি, বাস্তবে হাজার হাজার সামরিক উপাদান রফতানি করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ও যুদ্ধাস্ত্রের আওতায় পড়ে।
এছাড়া লেবার পার্টি ২০২৪ সালে একটি বিলের বিরোধিতা করেছিল, যা ইসরায়েলে সরকারি সংস্থাগুলোর বয়কট নিষিদ্ধ করত। একই সময়ে সরকারের কিছু নির্দেশনা স্থানীয় কাউন্সিলগুলোকে সতর্ক করেছিল যে ইসরায়েলি ব্যবসা বয়কট করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
লেখকের শেষ মন্তব্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দফতরের একটি ইউনিট— যা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ওপর নজর রাখত, সাম্প্রতিক বাজেট কাটছাঁটের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
‘এন্টিসেমিটিজম’
লেখকের মতে, কিয়ার স্টারমারের ইসরায়েল নীতি পরিচালনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) নিয়ে চলমান বিতর্ক ও জটিল পরিস্থিতি।
তিনি দাবি করেন, অনেকেই বিষয়টি স্বীকার না করলেও একটি ধারণা রয়েছে যে ইসরায়েলের কিছু নির্দিষ্ট যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার বাড়ার সঙ্গে সময়গতভাবে সম্পর্কিত। উদাহরণ হিসেবে ২০১৪ সালের জুলাই–আগস্ট এবং ২০২১ সালের মে মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলার সময় ইহুদিবিদ্বেষজনিত ঘটনা বেড়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
লেখকের মতে, স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও বিভাজন এমনকি সেইসব ব্যক্তিদের ওপরও প্রভাব ফেলেছে, যারা নিজেদের ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তুলে ধরেন।
একই সময়ে কিছু নতুন কণ্ঠস্বর আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসছে। যুক্তরাজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সিনাগগের প্রতিনিধিত্বকারী প্রগ্রেসিভ জুডাইস্মের দুই সহনেতা রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি এবং রাব্বি জোশ লেভি বলেছেন, ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা শুধু দেশের জন্য নয়, বরং ইহুদি ধর্মের ভবিষ্যতের জন্যও ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ তৈরি করতে পারে।
রাব্বি চার্লি বাগিনস্কি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নীতিগুলো এমন পথে এগোচ্ছে যা অনেক ইহুদি মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
এই ধরনের সতর্কবার্তা আগেও শোনা গেছে। ২০২৩ সালে লর্ড মাইকেল লেভি মন্তব্য করেছিলেন যে ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে।
লেখক আরও দাবি করেন, ব্রিটিশ ইহুদি সংগঠন ‘বোর্ড অব ডেপুটি’ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রভাব হারাচ্ছে, কারণ নতুন প্রজন্মের অনেকেই ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে বেশি যুক্ত হচ্ছে।
এছাড়া প্রধান রাব্বি এফ্রাইম মিরভিসকে ঘিরে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে তার মন্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করেছে বলে লেখক উল্লেখ করেন।
প্রতি বছর ইসরায়েলে ‘জেরুজালেম দিবস’ উদযাপিত হয়, যা ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর জেরুজালেম একীকরণের স্মরণে পালিত হয়। এই দিনে ‘ফ্ল্যাগ মার্চ’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কিছু অংশগ্রহণকারীকে উত্তেজনাপূর্ণ স্লোগান ও আচরণ প্রদর্শনের জন্য সমালোচিত করা হয়।
লেখকের ভাষ্যে, এই আয়োজন সময়ের সঙ্গে আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে এবং কিছু সমালোচকের মতে এটি ঘৃণামূলক আচরণের প্রকাশ হিসেবেও দেখা হয়।
‘সামনের পথ’
লেখকের মতে, লেবার পার্টির সামনে এখন কী করণীয়— তা একেবারে স্পষ্ট। তার দাবি, দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজের স্বার্থ নয়, বরং দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া— যদিও তিনি বলেন, কিয়ার স্টারমার প্রায়ই এই ধারণাকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষার জন্য ব্যবহার করেন।
লেখকের মতে, সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো নাইজেল ফারাজকে পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়া থেকে থামানো। তার দাবি, ফ্রান্সের মতো ব্রিটেনের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এতটাই বিভক্ত যে এটি কেবল বিভিন্ন বামপন্থী ও প্রগতিশীল শক্তির একটি জোটের মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি বলেন, এটি অর্জন করতে হলে এমন একজন নতুন নেতা প্রয়োজন, যিনি অন্যান্য প্রগতিশীল দলগুলোর সঙ্গে— যেমন গ্রিন পার্টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইওর পার্টি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি এবং প্লেইড সিমরু— সহযোগিতা করতে পারবেন এবং তাদের একত্রে কাজ করাতে পারবেন।
লেখকের মতে, স্টারমার যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন, ততদিন ফারাজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
/ইউএমএইচ