যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোয় জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘ক্ষতিকর কনটেন্ট’ পোস্ট করার অভিযোগে বহু মানুষকে আটক ও বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।
সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। একই সঙ্গে নির্দেশনা ভঙ্গকারীদের বিচারিক আপিলের সুযোগ সীমিত করার পাশাপাশি ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বাতিল করার মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
বাহরাইন ও কুয়েতে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাংবাদিক, ইনফ্লুয়েন্সার, মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ মানুষ রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উসকে দেওয়া, ভুয়া খবর ছড়ানো, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা দুর্বল করার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে দেশগুলো।
কুয়েতে অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য যুদ্ধকালীন বিশেষ পদক্ষেপ চালু করা হয়েছে। সড়কে নিরাপত্তা চেকপোস্ট স্থাপন করে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে শুধু লাইক দেওয়া বা প্রতিক্রিয়া জানানো, এমনকি খামেনির মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশের কারণেও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে— যাদের বেশিরভাগই শিয়া সম্প্রদায়ের। এসব অভিযোগে আটক কিছু গর্ভবতী নারীকেও কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে এবং কুয়েতে বসবাসরত অন্য দেশের নাগরিকদের পাঠানো হচ্ছে ডিপোর্টেশন কেন্দ্রগুলোতে।
কুয়েতে ব্যাপক আটক ও সাজা :
গত ২৩ এপ্রিল কুয়েতের নিরাপত্তা আদালত সোশ্যাল মিডিয়া-সম্পর্কিত মামলায় ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে রায় দেয়। এর মধ্যে ১৭ জনকে ৩ বছরের এবং ১ জন ফেরারি আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত লেখক আহমেদ শিহাব-এলদিন ৫২ দিন আটক থাকার পর খালাস পান।
কুয়েতের নতুন আইন ও জরিমানা :
মার্চ মাসে জারি করা ডিক্রি অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে দুর্বল বা অবমাননা করে কিছু প্রকাশ করলে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার কুয়েতি দিনার (১৬,২৫০ থেকে ৩২,৫০০ ডলার) জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দেশটির নাগরিকত্ব আইনের ১৩ ও ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী— ধর্ম অবমাননা, রাষ্ট্রের ক্ষতি বা শত্রু রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করলে নাগরিকত্ব বাতিলের নিয়ম করা হয়েছে।
বাহরাইনে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল :
গত ২৭ এপ্রিল বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শত্রুভাবাপন্ন ইরানের নানা কর্মকাণ্ডের প্রশংসা ও সমর্থনের অভিযোগে ৬৯ জন অ-বাহরাইনি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফার নির্দেশনায় জাতীয়তা আইনের ১০ নম্বর ধারার আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর বাহরাইনে দমন-পীড়ন অনেক বেড়েছে। এক কর্মীর দেওয়া তথ্যমতে, সেখানে প্রায় ৩০৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে নারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। কিছু আটক ব্যক্তিকে আইনজীবীর সহায়তা নিতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে বাহরাইনের সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই গ্রেপ্তারগুলো শুধুই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে করা হয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অনলাইনে ভুয়া তথ্য ছড়ানো রুখতেই আইন অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি