মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের সাবাক বার্নাম এলাকার সুঙ্গাই আপং উপকূলে একটি যাত্রীবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৬ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৬ মে) ভোরে সাগরে ভাসমান অবস্থায় নৌকাটিতে ফুটো দেখা দিলে এটি ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে নৌকার ক্রুদের কাছ থেকে জরুরি কল পাওয়ার পর মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির (এমএমইএ) সেলাঙ্গর শাখা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সকাল ৯টার দিকে নৌকাটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়।
সোমবার সেলাঙ্গর মেরিটাইম ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন আবদুল মুহাইমিন মুহাম্মদ সালেহ এক বিবৃতিতে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ‘কেএম বাগান দাতুক’ জাহাজ এবং ‘পেঙ্গালাং ৪১’ বোট দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
তবে মেরিটাইম এজেন্সির সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই ভাগ্যক্রমে স্থানীয় একটি মাছ ধরার নৌকা ১৬ অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, যার মধ্যে ৮ জন ইন্দোনেশিয়ান ও ২ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া বাকি ৬ জন ইন্দোনেশিয়ান নারী, যাদের বয়স ২৪ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও ৩ জন অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ ব্যক্তিরা ঠিক কোন দেশের নাগরিক তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তাদের সন্ধানে বর্তমানে সমুদ্রের প্রায় ২৩৬ বর্গ নটিক্যাল মাইল এলাকাজুড়ে ব্যাপক ও নিখুঁত তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। নিখোঁজদের জীবিত অথবা মৃত উদ্ধার করতে মালয়েশিয়ার কোস্টগার্ড তাদের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান আরও বেগবান ও সমন্বয় করতে ইতোমধ্যে ‘কেলোং প্যারাডাইস’ জেটিতে একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সাগরে নিখোঁজদের ফিরিয়ে আনতে মালয়েশিয়ার মেরিটাইম এজেন্সি ছাড়াও মেরিন পুলিশ এবং ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্ট একযোগে এ যৌথ অভিযানে কাজ করে যাচ্ছে।
/ইউএমএইচ