‘মন দুয়ারী’ ও ‘মেঘবালিকা’র পর দর্শকদের জন্য নতুন চমক নিয়ে আসছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজনীন নীহা জুটি। আসন্ন ঈদে সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে তাদের অভিনীত নাটক ‘মায়াপাখি’। জাকারিয়া সৌখিন পরিচালিত এই নাটকটি প্রচারে আসার আগেই আলোচনায় রয়েছে। পোস্টারে রহস্য ছড়িয়ে দর্শকদের মাঝে কৌতূহল বাড়িয়েছে ‘মায়াপাখি’।
কয়েক দিন আগে প্রকাশিত হয় নাটকটির প্রথম পোস্টার, যাতে দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে অপূর্ব ও নীহাকে এক রোমান্টিক মুডে দেখা যায়। অপূর্বর স্পর্শে নীহার শরীর যেন বাতাসে কর্পূরের মতো উড়ে যাচ্ছে। সেই চেনা রোমান্টিক আবহ ভেঙে গত রোববার রাতে হঠাৎ সামনে আসে একদম ভিন্ন ধাঁচের দ্বিতীয় পোস্টার। এতে দেখা যাচ্ছে, অসংখ্য গণমাধ্যমকর্মীর ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের সামনে হাত দিয়ে বাধা দিচ্ছেন এক মারমুখী ও গম্ভীর লুকের অপূর্বকে। একই নাটকের দুরকম পোস্টার দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা। অনেকেই মন্তব্য করছেন, এটি শুধু সাধারণ রোমান্টিক গল্প নয় বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো রহস্য বা ইমোশনাল থ্রিলার।
নাটকটির প্রযোজক এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু বলেন, দুই ধরনের দুটি বৈচিত্র্যময় পোস্টার দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মুক্তির আগে এমন প্রতিক্রিয়া সত্যিই ভালো লাগছে। আশা করছি ঈদে ‘মায়াপাখি’ দর্শকদের ভিন্ন স্বাদ দিবে।
অপূর্ব-নীহার ‘মন দুয়ারী’ ও ‘মেঘবালিকা’ নাটক দুটিও পরিচালনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। ‘মায়াপাখি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের গল্পটি একেবারেই ব্যতিক্রমধর্মী। প্রেম, আবেগ, রহস্য আর মানসিক টানাপোড়েনের মিশেলে তৈরি হয়েছে। এই নাটক দর্শকদের নিয়ে যাবে এক অন্যরকম অনুভূতির জগতে। প্রতিটি দৃশ্যেই থাকবে নতুন মোড়, আর শেষ পর্যন্ত গল্পের আবেশ সহজে ভুলতে পারবেন না দর্শকরা।
নাটকের গল্পে, মায়া নামের এক সাধারণ মেয়েকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় কাহিনি। তার সহজ-সরল জীবনযাপন, বেণি করা চুল, কপালের টিপ আর চোখের কাজলে মুগ্ধ হয়ে পড়ে সাদাত নামে এক যুবক। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকলেও একসময় পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। এরপরই শুরু হয় গল্পের আসল রহস্য।
গল্পের বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানাতে নারাজ নির্মাতা সৌখিন। দর্শকদের জন্য পুরো বিষয়টিই চমক হিসেবে রাখতে চান তিনি। তবে এটুকু নিশ্চিত করেছেন, তার আগের কাজগুলোর তুলনায় ‘মায়াপাখি’ হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের।
নাটকটি নিয়ে অপূর্ব বলেন, এটি এমন একটি গল্প, যা দর্শকের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেবে। নাটক শেষ হওয়ার পরও এর আবেশ অনেক দিন মনে থাকবে।
অন্যদিকে নীহা জানান, এই প্রজেক্টটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং কাজ। চরিত্রটিতে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন তিনি। দর্শকরা তাকে ভিন্ন এক রূপে দেখতে পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।