টেকনাফে টয়লেট নির্মাণে বালির বদলে পাহাড়ি মাটি

শেখ রাসেল, টেকনাফ (কক্সবাজার)

সারাদেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি টয়লেট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হ্নীলা এলাকায় চলমান এই প্রকল্প

2026-05-19T20:06:11+00:00
2026-05-19T20:07:52+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
টেকনাফে টয়লেট নির্মাণে বালির বদলে পাহাড়ি মাটি
শেখ রাসেল, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম  আপডেট: ১৯.০৫.২০২৬ ৮:০৭ পিএম
সরকারী টয়লেট নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী! ছবি : সময়ের আলো
কক্সবাজারের টেকনাফে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি টয়লেট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হ্নীলা এলাকায় চলমান এই প্রকল্প নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও টয়লেট নির্মাণে বালির পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি, নিম্নমানের কংকর এবং অপর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি জিআই তার বা লোহার ফ্রেম ব্যবহার না করে অনিয়মভাবে চাকা ও ঢাকনা তৈরি করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত দুইদিন ধরে টয়লেটের চাকা ও ঢাকনা তৈরির কাজ চলছে। নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত উপকরণ ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে কর্মরত এক রাজমিস্ত্রি আবুল বশর জানান, সময় বাঁচানোর জন্য ফ্রেম ছাড়া বা আংশিকভাবে লোহা ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কিছু ফ্রেম রাখা থাকলেও তা শুধু স্যাম্পল হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

অন্যদিকে মিক্সিং কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক মাহমুদ উল্লাহ বলেন, বালির পরিবর্তে পাশেই রাখা পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি মিক্সিং রেশিও বা মান সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। একই ধরনের মন্তব্য করেন আরেক শ্রমিক রশিদুল্লাহ। তিনি বলেন, যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই কাজ করছেন তারা।

নির্মাণ কাজের দায়িত্বে কারা আছেন এ বিষয়ে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে অস্পষ্টতা দেখা গেছে। কেউ বলেন জাহাঙ্গীর নামের একজন হেড মিস্ত্রি কাজ তদারকি করছেন, আবার কেউ বলেন জিয়াবুল নামের একজন সাইট পরিচালক দায়িত্বে আছেন। পরে জানা যায়, বিষয়টি সাব-কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সাব-কন্ট্রাক্টর ফরিদকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি মিস্ত্রিদের ভুল হতে পারে। তিনি সরাসরি দায় স্বীকার করেননি।

এদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসাইন জানান, নিয়ম অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনোভাবেই মানের সঙ্গে আপস করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কাঞ্জরপাড়া এলাকার ফরিদ নামে কেউ তাদের মূল ঠিকাদার নন; প্রকল্পের মূল ঠিকাদার হিসেবে “রণি” নামের একজন দায়িত্বে আছেন।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে টেকনাফে এক হাজার টয়লেট নির্মাণ ও বিতরণের প্রকল্প চলছে। এর আওতায় প্রায় ৮ হাজার চাকা ও ২ হাজার ঢাকনা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করতে গিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সুবিধাভোগীরা।

স্থানীয়রা গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে নির্মাণকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দ্রুত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।

আরবিএন 

  বিষয়:   কক্সবাজার  টেকনাফ  টয়লেট নির্মাণ  বালি  পাহাড়ি মাটি 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: