হাজার বছরের ঐতিহ্যের দেশ মিশর

প্রভা নাওয়ার

ফিচার

ফেরাউনের কথা মনে হলেই, আমাদের চোখে যে দেশটির ছবি ভেসে ওঠে, সেটি হাজার বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ মিশর। এটি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা

2026-05-20T09:58:46+00:00
2026-05-20T18:52:39+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ফিচার
হাজার বছরের ঐতিহ্যের দেশ মিশর
প্রভা নাওয়ার
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ৯:৫৮ এএম  আপডেট: ২০.০৫.২০২৬ ৬:৫২ পিএম
প্রতি বছর অনেক পর্যটক মিশরে ঘুরতে আসেন। গ্রাফিক : সময়ের আলো
ফেরাউনের কথা মনে হলেই, আমাদের চোখে যে দেশটির ছবি ভেসে ওঠে, সেটি হাজার বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ মিশর। এটি উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া জুড়ে অবস্থিত একটি আন্তঃমহাদেশীয় দেশ। প্রতি বছর অনেক পর্যটক দেশটিতে আসেন, বহু প্রাচীন স্থাপনা ঘুরে দেখেন ও এর আঞ্চলিক খাবারের স্বাদ নেন।

মিশরের প্রাচীন বাজার

মিশরের প্রাচীন বাজার ‘খান আল-খলিলি’।

মিশরের প্রাচীন বাজার ‘খান আল-খলিলি’।


মিশরের ৬০০ বছরের প্রাচীন বাজার ‘খান আল-খলিলি’। মিশরের প্রথম ক্যাফেটা এই বাজারেই অবস্থিত। এখানে আরবদের ট্রেডিশনাল পোশাক, আসবাবপত্র, শো-পিস, বিশ্বখ্যাত মিশরীয় আতর, পারফিউম, মশলাসহ অসংখ্য জিনিস পাওয়া যায়। এ ছাড়া মিশরের সবচেয়ে প্রাচীন স্বর্ণের বাজারও এটা। প্রাচীনকাল থেকেই মিশরের লোকজ শিল্পের প্রদর্শনী হয় এ বাজারে। 

গিজার পিরামিড প্রাঙ্গণ

মিশরের তিন রাজার জন্য তৈরি করা হয়েছিল এই পিরামিড।

মিশরের তিন রাজার জন্য তৈরি করা হয়েছিল এই পিরামিড।


কায়রোতে অবস্থিত এই পিরামিড প্রাঙ্গণে রয়েছে খুফু, খাফর ও মেনকাউরা নামে তিনটি পিরামিড, যা মিশরের তিন রাজার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তারমধ্যে খুফুর পিরামিড সবচেয়ে বড়। খুফুর পিরামিডটিতে ২৩ লক্ষ পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল। চার হাজার বছর ধরে এটিই ছিলো মানুষের তৈরি বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থাপনা। আড়াই হাজার বছর আগেও ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে গ্রীসের পর্যটকরা আসতেন এই পিরামিড দেখতে। এসব পিরামিডের লোভে বিশ্বখ্যাত যোদ্ধা ও ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বেনাপোর্ট মিশর দখল করার চেষ্টাও করেছিলেন!

মমি হল বা সভ্যতা জাদুঘর

১৮ জন রাজা ও ৪ জন রানির মমি রয়েছে এ জাদুঘরে।

১৮ জন রাজা ও ৪ জন রানির মমি রয়েছে এ জাদুঘরে।


মিশরের জাতীয় জাদুঘর অবস্থিত কায়রোতে। এ জাদুঘরটিতে মিশরীয় সভ্যতার ৫০ হাজার নিদর্শন রয়েছে। তার ভেতর অন্যতম নিদর্শন হলো রাজা ফেরাউনের মমি। এ ছাড়া এখানে মোট ১৮ জন রাজা ও ৪ জন রানির মমি রয়েছে। 

পারফিউম ফ্যাক্টরি

মিশরের পারফিউম বিশ্বখ্যাত।

মিশরের পারফিউম বিশ্বখ্যাত।


মিশরের পারফিউম বিশ্বখ্যাত। এর ফ্যাক্টরিতে গেলে বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তারা কীভাবে পারফিউম তৈরি করে, তা দেখতে পারবেন। জানতে পারবেন মিশরের প্রাচীন সুগন্ধির ইতিহাস সম্পর্কে। একইসঙ্গে দেখতে পাবেন অসংখ্য রকম পারফিউমের সংগ্রহ।

নীল নদ

নীল নদকে বলা হয় 'মিশরের দান'।

এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নদ। এতই বড় যে, তা মোট ১১টি দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নীল নদকে বলা হয় 'মিশরের দান'। এ নদকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল মিশরীয় সভ্যতা। নদটির অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো, যখন সব নদীর জল কমে যেতে থাকে, তখন এর জল বৃদ্ধি পায়। আবার যখন সব নদীর জল বেড়ে যায়, তখন এর জল কমে যায়। নীল নদের আবার আছে দুটো উপনদ। একটিকে বলা হয় শ্বেত নীলনদ, আরেকটি নীলাভ নীলনদ। এই নদের বিশালত্ব, নীলাভ জলরাশি, নদটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিস্ময়কর মিশরীয় সভ্যতা হাজার হাজার বছর ধরে ভ্রমণপিপাসু মানুষকে মুগ্ধ করে আসছে। 

ফেরাউনের শহর

মিশরের ইতিহাসে এটিই ছিলো সবচেয়ে বড় শহর।

মিশরের ইতিহাসে এটিই ছিলো সবচেয়ে বড় শহর।


সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মিশরের সূর্যদেবতা আতিনের নামে গড়ে উঠেছিল একটি শহর। শহরটির নাম দেওয়া হয়েছিল 'ভ্যাজলিন আতিন'। মিশরের ইতিহাসে এটিই ছিলো সবচেয়ে বড় শহর। শহরটি পশ্চিম লুক্সরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিলো। কোনও এক অজানা কারণে শহরটি হারিয়ে যায় বালুস্তরের নিচে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা শহরটির একটি অংশ মাত্র আবিষ্কার করতে পেরেছেন। এতে সেই নগরীর জীবনযাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পাথরের তৈরি বাড়ি ও রাস্তা, মৃৎশিল্প, পুঁতির নকশাসহ অন্যান্য নিদর্শনগুলো থেকে সেসময়কার উন্নত শিল্পকলার পরিচয় মেলে। এমনকি সেখানে খুঁজে পাওয়া যায় মানবকঙ্কালও। গবেষকদের ধারণা, এ শহরটি শুধু আবাসিকই ছিলো না, এখানে ছিলো শিল্পক্ষেত্র এবং প্রশাসনিক একটি নগরী, যেখানে কাজ করতেন অসংখ্য মানুষ।

কর্ণক মন্দির

বিশ্বখ্যাত ফেরাউনের রাজপ্রাসাদ বা কর্ণক মন্দির।

বিশ্বখ্যাত ফেরাউনের রাজপ্রাসাদ বা কর্ণক মন্দির।


এটি শুধু মন্দিরই নয়, বিশ্বখ্যাত ফেরাউনের রাজপ্রাসাদও। মন্দিরটির পেছনে একটি বড় ও গভীর দিঘি আছে, যা নীল নদের সঙ্গে সংযুক্ত। দিঘীটিকে গোপন দিঘি বলা হয়, কারণ নীল নদের সঙ্গে এর সংযুক্তির পথ আজও কেউ খুঁজে পায়নি।

লুক্সর মন্দির

জায়গাটিতে ৪২টি পিলারে মিশরের ৪২টি প্রদেশকে চিত্রিত করা হয়েছে।

জায়গাটিতে ৪২টি পিলারে মিশরের ৪২টি প্রদেশকে চিত্রিত করা হয়েছে।


এ মন্দির চত্বরের ভেতরে একটি মসজিদ ও গির্জা রয়েছে। এর ৪২টি পিলারে মিশরের ৪২টি প্রদেশকে চিত্রিত করা হয়েছে। দিনের বেলায় মন্দিরটি দেখতে একরকম লাগে। রাতে আবার তা পুরোপুরি ভিন্ন আবহ তৈরি করে।

প্রাচীন গ্রন্থাগার বিবলিওথেকা আলেকজান্দ্রিয়া

বিশ্বের প্রথম গবেষণাগার লাইব্রেরি।

বিশ্বের প্রথম গবেষণাগার লাইব্রেরি।


এটি খ্রিষ্টীয় ২য় শতকে নির্মিত, ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত বিশ্বের প্রথম গবেষণাগার লাইব্রেরি। এতে সংরক্ষিত আছে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, খ্রিষ্টীয় শতকের বই, অতীতকালের বই ছাপানোর বিভিন্ন ধরনের মেশিন, প্রাচীনকালের অনেক ইসলামিক নিদর্শন। এখন পর্যন্ত ৮ মিলিয়ন বইয়ের বিশাল সংগ্রহ আছে লাইব্রেরিটিতে। এখানে বাঙালি লেখকের বইও আছে।

নাইল ক্রুজ ডিনার

ক্রুজটি যেমন বিশাল, তার ইন্টেরিয়র ডিজাইনও সুন্দর।

ক্রুজটি যেমন বিশাল, তার ইন্টেরিয়র ডিজাইনও সুন্দর।


নীল নদের ওপর ক্রুজে ভেসে ডিনার (ব্যাপ্তি ২ ঘণ্টা) করার সুযোগ রয়েছে মিশরে। ক্রুজটি যেমন বিশাল, তার ইন্টেরিয়র ডিজাইনও সুন্দর। এখানে আপনি ডিনারের জন্য পেয়ে যাবেন ভারী খাবারের কিছু আইটেম, কয়েক ধরনের সালাদ, মিষ্টান্ন এবং সফট ড্রিংকস। সেই সঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন ফোকলরিক শো, বেলি ড্যান্স এবং নীল নদের রাতের মোহনীয় রূপ।

মিশরের খাবার

মিশরের জনপ্রিয় খাবার।

মিশরের জনপ্রিয় খাবার।


যে কোনও দেশে বা শহরে ঘুরতে গেলে, অবশ্যই তার আঞ্চলিক খাবার খাওয়া উচিত। মিশরের উল্লেখযোগ্য কিছু খাবার হলো-
১। কোশারি- মিশরের জাতীয় খাবার, যেখানে থাকে পাস্তা, চাল, মসুর ডাল, ভিনেগার, টমেটো সস ও ভাজা পেঁয়াজ!
২। ফালাফেল- ডিপ ফ্রাইড মটর ডালের কাবাব, যা সাধারণত পিটা ব্রেডের সঙ্গে খাওয়া হয়।
৩৷ শাওয়ারমা- জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড, যেখানে থাকে গ্রিলড চিকেন বা বিফ, নানা রকম মশলা ও সস।
৪। মিশরীয় চা ও ডেজার্ট- এখানকার চা ও সুস্বাদু মিষ্টান্ন বিখ্যাত।
৫। তামিয়া
৬। কাবাব এবং কোফতা
৭। বাবা গণৌশ
৮। ফিতির মেসহালেত
৯। মিশরীয় ফাতেহ
১০। মহশী
১১। আলেকজান্দ্রিয়ান কেবদাহ
১২। বাসবউসা
১৩। হাওয়াওশি
১৪। উম্মে আলী
এ ছাড়া এখানে তুলনামূলক বেশ সস্তায় ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু ফল পাওয়া যায়।

/মহু



  বিষয়:   মিশর  ঐতিহ্য  ভ্রমণ  খাবার 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: