দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও আধুনিকায়ন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের ভেতর আটকে রাখা হবে না। বরং নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা শেখানোর মাধ্যমে তাদের বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বুধবার (২০ মে) ঢাকায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘হলদে পাখি নীল কমল অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “এই পরিবর্তন কোনো বড় বড় বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে করা হবে না। নতুন কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে শিশুরা গল্প, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষা লাভ করতে পারে।”
শিশুদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার মানসিক চাপ কমানোর তাগিদ দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের বয়সটা মূলত আনন্দের মাধ্যমে নতুন কিছু শেখার। তাই তাদের ওপর বাড়তি পড়াশোনার চাপ বা ভারী বই চাপিয়ে দেওয়ার কোনো মানে হয় না।
তিনি আরও জানান, নতুন এই শিক্ষাক্রমে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনভিত্তিক নানা দক্ষতা শেখানো হবে। শিক্ষার্থীরা কীভাবে একজন ভালো নাগরিক হবে, কীভাবে নিজের ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখবে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করবে— সেসব বিষয় বাস্তবসম্মতভাবে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) চালুর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত খুদে শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজ আমি শুধু গার্ল গাইডসদের মাঝে নেই, আমি মূলত আগামী বাংলাদেশের নেতাদের মাঝে আছি। আমরা এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, যারা শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।”
এবারের অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা মোট ৫৭ জন সফল হলদে পাখি সদস্যকে মর্যাদাপূর্ণ ‘নীল কমল অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অর্জন ভবিষ্যতের অন্য শিক্ষার্থীদেরও দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গার্ল গাইডসের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জেডি