পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। বর্তমান দেশীয় মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিশাল আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ হাজার ৪৭৮ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছরের মে মাসের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সামগ্রিক রেমিট্যান্স চিত্র তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে শুরু করে চলতি মে মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে মোট ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স যুক্ত হয়েছে। আগের অর্থবছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় বর্তমান অর্থবছরের এই রেমিট্যান্স প্রাপ্তির হার প্রায় ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।
দেশের ব্যাংক খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রবাসীরা সাধারণত দেশে থাকা তাদের পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের জন্য অন্য সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণে বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। কোরবানির পশু কেনাকাটাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক পারিবারিক খরচের কারণে প্রতি বছর এই সময়ে রেমিট্যান্সের প্রবাহ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যার প্রতিফলন এবারও বাজারে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা গত কয়েক মাস ধরেই বজায় রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে এসেছিল মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির সর্বকালীন রেকর্ড। এর পরবর্তী মাস অর্থাৎ এপ্রিল মাসেও দেশে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলারের বড় অঙ্কের প্রবাসী আয় এসেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/টিএইচ