জামালপুরে ফুপাতো বোনের সঙ্গে খালাতো ভাইয়ের প্রেমঘটিত আক্রোশের জেরে চাঞ্চল্যকর আলামিন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেরপুর জেলার বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) পঙ্কজ দত্ত।
গ্রেফতাররা হলেন, পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার শুভ (১৯) এবং একই এলাকার সম্রাট (২০)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পঙ্কজ দত্ত জানান, শেরপুর জেলার বাসিন্দা নিহত আলামিনের এক তালাকপ্রাপ্তা বোনের সঙ্গে তার খালাতো ভাই শুভর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে আলামিন একপর্যায়ে শুভকে প্রস্তাব দেন যে, শুভ যেন আলামিনের বোনের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
পরবর্তীতে মোটরসাইকেলের গ্যারেজ দেওয়ার জন্য আলামিনের কাছে ১ লাখ টাকা ধার চান শুভ। টাকা ধার দেওয়ার শর্ত হিসেবে আলামিন শুভর মাধ্যমে তার (শুভর) নিজের বোনকে কু-প্রস্তাব দিলে শুভ চরম অপমানিত বোধ করেন। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই আলামিনকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন শুভ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুভ তার বন্ধু সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ডে সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন। সম্রাট রাজি হলে, গত ১৩ মে বিকেলে আলামিনকে ফুসলিয়ে শুভর এক বন্ধুর মোটরসাইকেলে করে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুযোগ বুঝে শুভ তার প্যান্টের পকেটে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে আলামিনের গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
হত্যাকাণ্ডের পর গত ১৮ মে বিকেলে শেরপুরের সীমান্তবর্তী জামালপুরের পাথালিয়া এলাকার বালুর চর থেকে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন ও অর্ধগলিত এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর সদর থানা পুলিশ। খবর পেয়ে পিবিআই জামালপুর টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে মরদেহরে পরনে থাকা ট্রাউজার ও জুতা দেখে শনাক্ত করেন তার বাবা।
এই ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় অজ্ঞাত হত্যা মামলা করা হয়। পিবিআই জামালপুর জেলা ইউনিট স্ব-উদ্যোগে মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পিবিআই। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সময়ের আলো/জোই