পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে অপহৃত দুই কলেজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার ও অপহরণ চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত একাধিক মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীদের গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী উপজেলার পিয়ারপুর এলাকার ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মাজহারুল ইসলাম প্রান্ত (১৯) এবং তার বন্ধু মো. তানভীর হোসেন তন্ময় (১৮)মঙ্গলবার বিকেলে পাবনা শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অপহরণকারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে জানায় যে, তাদের দুইজনকে একটি মেয়েসহ আটক রাখা হয়েছে। তাদের মুক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা দিতে হবে। একই সঙ্গে অপহৃতদের মারধর ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজিনুর রহমানের তত্ত্বাবধানে ওসি ডিবি মো. রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই বেণু রয় পিপিএম, এসআই মো. জাকারিয়া মাসুদ ও এসআই মো. মহিদুল ইসলামের সমন্বয়ে জেলা ডিবির টিম উদ্ধার অভিযান চালায়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে।
অভিযানে আটকরা হলেন, একই এলাকার, মো. জাহিদ ইসলাম হাতেম (২৫), মো. শান্ত মিয়া (২৪), মো. রাহাত আলী (২০, মো. সেজান হোসেন (২৫, মো. সাজ্জাদ হোসেন (২০), মো. সোহেল রানা (৪০), মো. রিফাত হোসেন (১৯)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম মো. রেজিনুর রহমান জানান, পুলিশের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় রাতেই তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় স্থান সনাক্ত করে অপহৃতকারীদের উদ্ধার ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের আটক করা হয়। তাদের আটকের পরে এলাকার মানুষ উল্লাস করেছে। এমন কোনো অপকর্ম নেই যে তারা করে না। এলাকায় তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। যারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়েছে তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, দুই কলেজ শিক্ষার্থীকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলার প্রক্রিয়া চলমান।
সময়ের আলো/জোই