ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অঞ্জলি লহ মোর’ ভাস্কর্যটি দীর্ঘ ১১ মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। কবির বিখ্যাত গান ‘অঞ্জলি লহ মোর সংগীতে’—এর ভাবধারায় নির্মিত এই ভাস্কর্যটি গত বছরের পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি চলাকালীন ভাঙা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তৎকালীন প্রশাসন ভাঙার কাজ স্থগিত করে এবং করণীয় নির্ধারণে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। তবে ঘটনার ১১ মাস পার হলেও এখনো ভাস্কর্যটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ভাস্কর্যটি এখনো অর্ধেক ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ভাস্কর্যটি এভাবে পড়ে থাকায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। তারা দ্রুত এটি সংস্কার করে আগের রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদের ছুটি চলাকালে প্রশাসন ভাস্কর্যটি ভাঙতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর ক্যাম্পাসে তুমুল আন্দোলন শুরু হয়। দেশের অনেক বিশিষ্ট শিল্পীও এর প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে ২২ জুন ভাস্কর্যটি আগের নকশায় সংস্কারের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে সক্রিয় থাকা ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, তৈরি করার পর থেকে ভাঙার আগপর্যন্ত এই ভাস্কর্যের সৌন্দর্য বা ব্যবহার নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না। ছুটির সুযোগে প্রশাসনের অনুমতিতেই এটি ভাঙা হচ্ছিল। আমাদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসন সংস্কারের আশ্বাস দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করেনি। তৎকালীন প্রশাসন বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে খুশি করতে এটি ভাঙতে চেয়েছিল। আমরা চাই নজরুল সৃষ্টিকর্মের প্রেরণায় নির্মিত এই ভাস্কর্যটি দ্রুত পুনঃস্থাপিত হোক এবং ভাঙার নীলনকশাকারীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ ভবনের সামনের পুকুরের সৌন্দর্য বাড়াতে ভাস্কর মনিন্দ্র পালের নকশায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে একই বছরের অক্টোবরে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।
গত বছর এটি ভাঙার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকীকে আহ্বায়ক এবং উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল ইসলামকে সদস্যসচিব করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ডিপিডি মো. হাফিজুর রহমান জানান, কমিটি প্রায় এক মাস আগে তাদের সুপারিশ ও নতুন একটি নকশা জমা দিয়েছে। পূর্বের ভাস্কর্যটি সংস্কারের পাশাপাশি এতে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা উন্নয়ন ও ওয়ার্কস কমিটির সভা শেষে দ্রুতই সুপারিশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মিজানুর রহমান এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, কমিটির সুপারিশকৃত নতুন নকশা অনুযায়ী দ্রুতই ভাস্কর্যটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
সময়ের আলো/জোই