রূপগঞ্জে বেড়িবাঁধের ভেতর কৃত্রিম জলাবদ্ধতার প্রতিকার চায় এলাকাবাসী

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

সামান্য বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধ এলাকার ভেতরে সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ডুবছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি। শিক্ষাঙ্গণে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগজীবাণু।

2026-07-18T20:20:00+00:00
2026-07-18T20:22:14+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
রূপগঞ্জে বেড়িবাঁধের ভেতর কৃত্রিম জলাবদ্ধতার প্রতিকার চায় এলাকাবাসী
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২০ পিএম  আপডেট: ১৮.০৭.২০২৬ ৮:২২ পিএম
সামান্য বৃষ্টিতেই এখানে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। ছবি : সময়ের আলো
সামান্য বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধ এলাকার ভেতরে সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ডুবছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি। শিক্ষাঙ্গণে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগজীবাণু। প্রতি বছরই এমন ভোগান্তিতে পড়ছে প্রায় ১২টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কাঞ্চন, কালাদী, নলপাথর, ডুলুরদিয়া, টেকপাড়া, মুড়াপাড়া-গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হাটাব, বারুইপাড়, আমলাব, পিঠাঘুড়ি এলাকায় এমন চিত্রের দেখা মেলে। 

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে জাইকার অর্থায়নে এ সকল এলাকায় অধিগ্রহণের মাধ্যমে বানিয়াদী থেকে গোলাকান্দাইল ও কাঞ্চনের কালাদী থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত ২টি বড়খাল এবং এলাকার ভেতরে সুতালরির খাল, দাগিরমার খাল, মাউচ্চা বিলের খাল, কানী বিলেরখাল ও টাটকির খালসহ ৬/৭ টি শাখা খাল খনন করা হয়। বেড়িবাঁধ এলাকায় বর্ষায় পানি নিষ্কাশন এবং আবাদ মৌসুমে চাষাবাদের সুবিধার্থে বানিয়াদী এলাকায় তৈরি হয় সুইচ গেইট। সেখানে বসানো হয় ৪টি সেচ পাম্প।


এছাড়াও, প্রতিটি শাখা খালকে সুইচ গেইটের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায়, খালগুলোর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ভরাট কিংবা দখল হয়ে যায়। কালাদী থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত খালটি ভরাট করে ঢাকা বাইপাস সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ করা হয়, তাতে খালটি বিলীন হয়ে পড়ে। কাঞ্চন দক্ষিণ বাজার এলাকায় উকিল বাড়ির খালের উপর গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা। টেকপাড়া থেকে পিঠাগুড়ি পর্যন্ত শাখা খালের উপর নির্মাণ করা হয় অবৈধ বাগান বাড়ি। ডুলুরদিয়া এলাকায় সেচ খালের উপর অবৈধভাবে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। বানিয়াদী সুইচ গেইট থেকে গোলাকান্দাইল অব্দি বড় খালের উপর বর্জ্যস্তুপ, অবৈধ পাকা স্থাপনা, গৃহস্থালির ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করার ফলে পানির চলাচল কমে গেছে।

এদিকে, গোলাকান্দাইল থেকে ব্রক্ষ্মপুত্র নদী পর্যন্ত খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলদারের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পানির চলাচল। টাটকির খাল, সুতালরির খাল, দাগিরমার খালে বিভিন্ন ফ্যাক্টরির ময়লা পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। 

ঢাকা বাইপাস রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বালুর গদি। যেখানে বালুর ৩ গুণ পানি বেড়িবাঁধ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বড় খাল এবং শাখা খালের বিভিন্ন স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে উজানের পানি বানিয়াদীর খালে নামতে পারছে না। ফলে, সুইচ গেইট এবং সেচ পাম্প থাকা সত্ত্বেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। 


এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থায়নে অধিগ্রহণকৃত খালগুলো উদ্ধার করে পুনঃখনন করতে হবে। সড়কে দখলকৃত খালের বিকল্প খাল খনন করতে হবে। খালের উপর অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। খাল খননের মাধ্যমে উজানের পানি বানিয়াদী খালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি খাল পরিষ্কার রাখা, নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর তদারকি করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি খালে অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি বালুর গদির হাজার হাজার মেট্রিকটন পানি নামানোর ব্যবস্থা করতে হবে। 

স্থানীয় গ্রামবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে প্রশাসন এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেই ক্ষান্ত। স্থায়ী কোনো সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউ।

জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত খালগুলো উদ্ধার করে পুনঃখননের মাধ্যমে বানিয়াদী সুইচ গেইটের সঙ্গে খালগুলোর সংযোগ চান এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে বানিয়াদী সুইচ গেইটের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীতে পানি নিস্কাশনও করার দাবি জানান তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে মিটিং করা হয়েছে। যার যার অবস্থান থেকে খালের উপরের অবৈধ স্থাপনা স্বইচ্ছায় সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। তাতে কাজ না হলে, অভিযান চালিয়ে সকল অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হবে।’

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   রূপগঞ্জ  নারায়ণগঞ্জ  বেড়িবাঁধ  জলাবদ্ধতা  প্রতিকার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: