ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় ব্যস্ততা। কেউ খাবার দিচ্ছেন, কেউ পানির ব্যবস্থা করছেন, আবার নির্দিষ্ট সময় শেষে সংগ্রহ করছেন ডিম। প্রতিদিন এমনভাবেই চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর গ্রামের ‘কাজল অ্যাগ্রো লেয়ার ফার্ম’-এ দিন কাটে বাবা হান্নান মিয়া ও ছেলে আজহারুল ইসলাম জুয়েলের।
বেকারত্বকে পিছনে ফেলে পরিশ্রম আর সাহসকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছেন লেয়ার মুরগির খামার। ছোট পরিসরে শুরু হলেও বর্তমানে তা বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এখন তাদের খামারে রয়েছে প্রায় ৮০০ থেকে এক হাজার লেয়ার মুরগি। প্রতিদিন খামার থেকে গড়ে শত শত ডিম সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বাবা-ছেলে দুজন মিলে মুরগির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। মুরগিকে খাবার দেওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পানির ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে ডিম সংগ্রহ সবকিছুই তারা নিজেরাই করেন।
খামারি হান্নান মিয়া জানান, প্রথমে একদিন বয়সী লেয়ার মুরগি বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করে খামারে পালন শুরু করেন। পরে ছেলে আজহারুল ইসলাম জুয়েলকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী খামার পরিচালনা করতে থাকেন। ধীরে ধীরে সফলতা আসতে শুরু করে।
তিনি বলেন, বেকার বসে না থেকে কিছু করার চিন্তা থেকেই খামার শুরু করি। শুরুতে অনেক কষ্ট ছিল। কিন্তু ধৈর্য আর পরিশ্রমের কারণে এখন ভালো ফল পাচ্ছি। বর্তমানে এই খামার থেকেই আমাদের সংসার চলছে।
ছেলে আজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমরা চাই আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলতে। সরকার ও সমাজের সহযোগিতা পেলে খামার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। যুব সমাজ চাকরির পেছনে না ঘুরে এমন উদ্যোগ নিলে নিজেরাও স্বাবলম্বী হতে পারবে।
এদিকে বাবা-ছেলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাওকাত হোসেন সুমন বলেন, হান্নান মিয়া ও তার ছেলের লেয়ার ফার্মটি সত্যিই প্রশংসনীয়। বেকার যুবকেরা চাইলে ছোট বা বড় পরিসরে এমন খামার গড়ে তুলতে পারে। এতে যেমন স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখা যাবে। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই