পাবনার বেড়ায় যমুনা নদীবেষ্টিত নদীর পূর্ব পাড়ে বিভিন্ন চরাঞ্চলে আবাদকৃত জমির চিনাবাদাম ক্ষেতে দলবেঁধে ক্ষুধার্ত শেয়াল হানা দিচ্ছে। এ ছাড়া বাদাম খেয়ে গাছ উপড়ে ফেলে বিনষ্ট করার খবরও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাদাম চাষিরা জানিয়েছে উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, চর নাকালিয়া, চর সাঁড়াশিয়া, চর পেচাকোলা, চর নাগদাহ, চর সাফুল্লা মৌজাসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাদকৃত অনেক জমির উঠতি পাকা-আধাপাকা চিনাবাদাম খেতে চরের ঝোপ-জঙ্গলে থাকা ক্ষুধার্ত শেয়াল দলবেঁধে বের হয়ে রাতে বাদামের জমিতে হানা দিয়ে পা ও মুখ দিয়ে বাদাম গাছ তুলে বাদাম খেয়ে ফেলাসহ গাছ বিনষ্ট করে ফেলছে বলে একাধিক বাদামচাষি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কমকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবির বলেন, আপনাদের কাছে জানতে পারলাম চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেত ক্ষুধার্ত শেয়াল দলবেঁধে দিন-রাতে তছনছ করে ফেলেছে। মাঠকর্মীদের তদারকিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাদামচাষিদের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে এটি কীভাবে দমন করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করব।
পেচাকোলা গ্রামের বাদামচাষি বাবলু শেখ বলেন, তার ২ বিঘা জমির আবাদকৃত চিনাবাদাম পুষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুধার্ত শেয়াল দলবেঁধে প্রায় প্রতিদিন রাতে এবং সুযোগ পেলে দিনের বেলাতেও এসব চরের জমির চিনাবাদাম খেয়ে গাছ বিনষ্ট করায় সে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
চর নাগদাহ গ্রামের বাদামচাষি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা বলেন, তার নিজের জমির অনেক বাদাম শেয়ালে খেয়ে ফেলাসহ তার ওয়ার্ডের চরের অনেক এলাকায় চাষকৃত চিনাবাদাম ক্ষুধার্ত শেয়াল দলবেঁধে মাটি থেকে গাছ তুলে ফেলে বাদাম খেয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলে রেখে যাচ্ছে। শেয়ালের অতিষ্ঠ থাবা থেকে বাদামচাষিরা রক্ষা পেতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
চর সাফুল্লা গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন দুঃখ ও আক্ষেপ করে বলেন, এমনিতেই চলতি মৌসুমে কয়েক দিন আগে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ ও খরায় আবাদকৃত অনেক জমির চিনাবাদাম গাছ রোদে পুড়ে মরে যাওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তার ওপর আবার বাদাম ক্ষেতে ক্ষুধার্ত শেয়ালের থাবা। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো অবস্থা।
সময়ের আলো/আআ