কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল সাবেক নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আনা মামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬ সালের একটি ঘটনাকে বিকৃত করে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ আনে। সেখানে বলা হয়, তিনি ১৯৯৬ সালে চারজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন, যাদের মধ্যে তিনজন আমেরিকান নাগরিক। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় ‘উদ্ধারকারী ভাইদের সংগঠন’ নামের একটি সংগঠনের দুটি ছোট বিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।
কিউবা বলছে, এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল বলেন, এর কোনো আইনি ভিত্তি নয়, বরং কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬ সালের ঘটনার সত্যতা বিকৃত করছে এবং ‘উদ্ধারকারী ভাইদের সংগঠন’কে তিনি ‘নার্কো-টেররিস্ট’ বা মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িত সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিমান দুটি তখন মিশনে ছিল এবং কিউবার আকাশসীমার কাছে কাজ করছিল। কিন্তু কিউবা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ওই বিমানগুলো বারবার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছিল।
কিউবার মতে, তারা যা করেছে তা ছিল নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নেওয়া একটি বৈধ পদক্ষেপ। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, আকাশসীমা রক্ষা করা তাদের অধিকার ছিল। তাই তারা মনে করে, তাদের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল।
দিয়াজ-কানেল আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের সামরিক অভিযান এবং বিদেশে চালানো হামলাগুলোকে আড়াল করে অন্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। কিউবার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযান চালিয়ে মানুষ হত্যা করে, যাকে তারা ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ বলে মনে করে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞারও কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে, এই নিষেধাজ্ঞা কিউবার অর্থনীতি ধ্বংস করেছে এবং জনগণের ওপর ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এটি এক ধরনের সংকট তৈরি করেছে এবং জ্বালানি সংকটও এরই ফল।
কিউবা সরকারের দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক নীতি চালু করেছে, তার কারণে কিউবায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
দিয়াজ-কানেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার মিথ্যার ভিত্তিতে যুদ্ধ ও চাপ প্রয়োগ করে এবং কিউবার বিরুদ্ধে ‘অবরোধ’ চালাচ্ছে। তার মতে, এই অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি অনেক বদলাতে পারে।
অন্যদিকে কিউবা সরকার এক বিবৃতিতে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেয়। তারা বলে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এই বিষয়ে কোনো বৈধতা বা এখতিয়ার নেই।
কিউবা আরও দাবি করে যে, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমানগুলো ২৫ বারের বেশি তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। তাই ১৯৯৬ সালের ঘটনাটি ছিল তাদের মতে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল চুক্তি অনুযায়ী বৈধ ছিল।
কিউবা আরও অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিভিন্ন সামরিক অভিযান চালিয়ে মানুষ হত্যা করে, কিন্তু সেগুলোকে তারা ‘আইনসম্মত অভিযান’ বলে চালিয়ে দেয়।
কিউবা সরকার জানিয়েছে, তারা তাদের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং রাউল কাস্ত্রোর প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
/ইউএমএইচ