যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দুই পক্ষ আবার কবে আলোচনায় বসবে তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন সংশয়। এর মধ্যেই আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে প্রভাবশালী এক কট্টরপন্থি সামরিক কর্মকর্তার নাম সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ভাহিদি ইরানের আলোচনার কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ভাহিদি বর্তমানে ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নেতৃত্ব কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনায় ইরানের কঠোর অবস্থান নির্ধারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের যে গোষ্ঠীটি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখে, ভাহিদি সেই শক্তিশালী বলয়ের অংশ। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে দ্রুত পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। কে আসলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। বিভিন্ন গোষ্ঠী ক্ষমতার প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে, ফলে কিছু পক্ষ দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে, আবার কিছু পক্ষ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ভাহিদিকে গত ৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সম্প্রতি ইরানি গণমাধ্যমে তার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়ও ছিল বলে জানা যায়।
দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকা ভাহিদি ইরানের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার একটি ইহুদি কেন্দ্র বোমা হামলা এবং ২০২২ সালের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন অভিযানে কঠোর ভূমিকার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভাহিদি ও তার ঘনিষ্ঠ শক্তি এখন শুধু সামরিক নয়, বরং ইরানের আলোচনার কৌশলও নিয়ন্ত্রণ করছে। এদিকে ইরান কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালী এলাকায় চাপ বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার অভিযোগও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে হস্তান্তরের দাবি মানতে রাজি নয়। তাদের যুক্তি, দীর্ঘ সময় এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি নেবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ভাহিদির প্রভাব ইরানের নীতি আরও কঠোর ও সংঘাতমুখী করে তুলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের পক্ষ থেকে একটি একক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কাঠামো খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
আরবিএন