যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া।
শুক্রবার (২২ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান পরোক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে এই খসড়া তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিতে স্থল, নৌ ও আকাশপথে তাৎক্ষণিক, পূর্ণাঙ্গ এবং নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর হামলা না চালানোর পারস্পরিক অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একইসঙ্গে সামরিক অভিযান এবং গণমাধ্যমে শত্রুতামূলক প্রচারণা বন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে সম্মান জানাবে। এছাড়া আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি, চুক্তি কার্যকর হওয়ার সাত দিনের মধ্যে বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, ইরানের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও খসড়ায় রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার পরই চুক্তিটি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সময় নয়। আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে আলোচনা কোন দিকে যাবে।
অন্যদিকে, ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যু এখনও আলোচনার বড় বাধা হয়ে রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ফিরিয়ে আনার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইরানকে এ ধরনের ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে তা ধ্বংস করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি পারমাণবিক উপাদান বিদেশে পাঠানো হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ইরান নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর বিষয়ে বিবেচনা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
/ইউএমএইচ