যুক্তরাষ্ট্রের মাঝারি পাল্লার ‘টাইফোন’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মোতায়েনের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে চীন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও টোকিওকে তাদের এই পদক্ষেপ ‘ভুল’ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। শুক্রবার (২২ মে) নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সিজিটিএন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাপানে যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে টাইফোন মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। মহড়া শেষে এটি জাপানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হবে। এর আগে ২০২৪ সালে ফিলিপাইনেও একই ধরনের ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল।
চীনা মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘টাইফোন’ একটি কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্র। এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন এশিয়ার অন্যান্য দেশের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং আঞ্চলিক কৌশলগত নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। পাশাপাশি এতে সামরিক সংঘাত ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
‘টাইফোন’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি স্থলভিত্তিক মাঝারি-পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এতে কনটেইনার-মাউন্টেড মার্ক-৪১ ভার্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত দূরপাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্র ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যকার সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে তৈরি।
এই ব্যবস্থায় টমাহক ক্রুজ মিসাইল ও স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ (এসএম-৬) ব্যবহার করা যায়। টমাহক মিসাইল দিয়ে প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দূরের স্থল ও সমুদ্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। এসএম-৬ দিয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরের আকাশ ও সমুদ্র লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি ফিলিপাইন ও জাপানে মোতায়েন করা হয়েছে এবং এটি দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরযোগ্য।
চীনের মুখপাত্রের মতে, এটি জাপানের দ্রুত সামরিকীকরণের আরেকটি উদাহরণ। তার দাবি, দেশটির ডানপন্থি শক্তিগুলো সামরিক সক্ষমতার পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও সামরিক নীতির পরিবর্তন আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য সতর্কতার বিষয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আরবিএন