নাটোরের বড়াইগ্রামে এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের ফলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় আজ সোমবার ভোরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতাররা হলেন— উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের মালিপাড়া পশ্চিমাংশ এলাকার শামসুল হক গাজী (৬০) ও তার ছেলে রডমিস্ত্রি আরিফুল ইসলাম (৩০)।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাড়ির পাশে শামসুল হক গাজীর একটি চা-বিস্কুটের দোকান রয়েছে। সেখানে বিস্কুট কিনতে আসার সুবাদে মেয়েটির ওপর নজর পড়ে শামসুল হকের। পরবর্তীতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে মেয়েটিকে একা পেয়ে সে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বাবার অবর্তমানে মাঝে-মধ্যে দোকান চালাতো ছেলে আরিফুল ইসলাম। সুযোগ বুঝে সেও মেয়েটিকে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এভাবে বিভিন্ন সময় বাবা ও ছেলে উভয়ের দ্বারাই ধর্ষণের শিকার হতো ওই ছাত্রী। একপর্যায়ে মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে মা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জানতে পারেন সে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বললে, গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় গ্রামপ্রধানরা একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে ১০ লাখ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে অভিযুক্ত ছেলে আরিফুল ইসলামের সাথে ভুক্তভোগী নাবালিকার বিয়ে দেওয়া হয়।
তবে, এই বাল্যবিয়ে শরিয়ত ও আইনগতভাবে বৈধ নয় জানতে পেরে, ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে গত শনিবার (২৩ মে) রাতে বড়াইগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা ও ছেলেকে গ্রেফতার করে সোমবার (২৫ মে) দুপুরে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/জেডি