ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
সোমবার (২৫ মে) এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজ এ তথ্য জানায়। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির উন্নয়নে আমরা অবশ্যই আমাদের অর্থের একটি অংশ ব্যয় করবো। এজন্য আমরা কারও অনুমতি নেবো না।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি এটি না করতাম, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলো আমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতো।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানানো হলেও, তেহরান আবারও স্পষ্ট করলো যে তারা এ অবস্থান থেকে সরে আসছে না।
সোমবার ইরান বলেছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তি নিয়ে অনেক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তবে এখনই কোনো চুক্তি স্বাক্ষর আসন্ন নয় বলে সতর্ক করেছে।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি বড় অংশে আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি— এটা বলা যায়।
তিনি আরও বলেন, তবে এর মানে এই নয় যে একটি চুক্তি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হবে—এ ধরনের দাবি কেউ করতে পারে না। তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বমূলক আচরণ এবং অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগও করেন।
ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তির উদ্দেশ্যে তারা একটি ১৪ দফা কাঠামো চূড়ান্ত করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আলোচকদের তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দেওয়ায়, সোমবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের একটি চুক্তি বাস্তবায়িত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যে কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে সেই লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আবারও উল্লেখ করেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যা ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— এই কাঠামোর বিস্তারিত অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। উভয় পক্ষ কাঠামোতে একমত হওয়ার পরেই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ শেষ করার ধারা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নৌ অবরোধের নামে মার্কিন পদক্ষেপ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং একই সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ ট্রানজিট নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরান শুধুমাত্র নির্দিষ্ট অনুমতি নিয়ে জাহাজগুলোকে প্রণালী অতিক্রম করতে দিচ্ছে।
বাঘাই বলেন, ইরান প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজের ওপর কোনো টোল আরোপ করছে না, বরং নৌচলাচল সেবার জন্য টোল নিচ্ছে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং নৌচলাচল সেবা দেওয়া হয়—এর জন্য নির্দিষ্ট ফি নেওয়া প্রয়োজন, তিনি আরও বলেন ইরান টোল আদায় করতে চায় না।