চামড়ায় এবারও দুশ্চিন্তা

এসএম আলমগীর

অর্থনীতি

একেবারে দুয়ারে কড়া নাড়ছে কুরবানির ঈদ। এই ঈদকে ঘিরে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে চাঞ্চল্য দেখা দিলেও কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে দেখা

2026-05-26T01:28:18+00:00
2026-05-26T01:28:18+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি
চামড়ায় এবারও দুশ্চিন্তা
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:২৮ এএম 
সংগৃহীত ছবি
একেবারে দুয়ারে কড়া নাড়ছে কুরবানির ঈদ। এই ঈদকে ঘিরে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে চাঞ্চল্য দেখা দিলেও কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা। চামড়ার ন্যায্য মূল্য মেলে না, ভালো দাম না পেয়ে অনেকেই ফেলে দেন চামড়া, গরমের ভরা মৌসুমে ঈদ হওয়ায় বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। আবার একটি সিন্ডিকেট কাঁচা চামড়া পাচার করে দেয় প্রতিবেশী দেশে। এবারও কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া বিক্রি করতে না পারা, গরমে নষ্ট হওয়া এবং পাচারের আশঙ্কা থাকছে এবারও। এ ছাড়া ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েক দিন চামড়া নিয়ে যে অব্যবস্থাপনা হয়, এবারও তার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, এবার কুরবানির চামড়া নিয়ে অব্যবস্থাপনা হবে না এবং কুরবানির চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কন্ট্রোল রুম চালু করাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। 

এদিকে সরকার এবার কুরবানির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২ টাকা বাড়িয়ে ঢাকায় ৬২ থেকে ৬৭ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে। তবে ঈদের দিন থেকে দেখা যায়, সরকারি দাম এক, বাজারে আরেক দাম। কুরবানির চামড়ায় মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য থাকে চরমে। এ ছাড়া ট্যানারি খাতের সংকট আর রফতানি আয়ে ধাক্কার মধ্যে এবারও কি লোকসানে যাবে চামড়া শিল্প এ প্রশ্নও রয়েছে খাত-সংশ্লিষ্টদের মাঝে। তবে কম দামে চামড়া বিক্রি হলে বঞ্চিত হয় গরিব মানুষ ও এতিমখানা-মাদরাসার ছাত্ররা। কারণ এই চাড়মার অর্থ মূলত তারাই পায়। ভালো দাম না পেলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই চামড়ার দাম বাড়লেও হাসি ফুটবে কি গরিবদের মুখে এ প্রশ্ন চলে আসছে। 

অবশ্য চামড়া খাতের শিল্প মালিকরা বলছেন, গত বছরের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ চামড়া এখনও অবিক্রীত অবস্থায় আছে। এর মধ্যে এবার কুরবানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে প্রায় সোয়া এক কোটি। অর্থাৎ এবার ট্যানারিগুলোতে চামড়া ঢুকবে এক কোটিরও বেশি। আগের বছরের চামড়া রয়ে যাওয়ায় নতুন চামড়া সংরক্ষণেও সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন ট্যানারি মালিকরা। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘এবারের কুরবানির ঈদে চামড়া নিয়ে আমাদের বড় দুটি দুশ্চিন্তা রয়েছে। প্রথমত এবার ভরপুর গরমে ঈদ উদযাপিত হবে, তাই গরমে চামড়া নষ্ট হওয়ায় আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ঈদের দিন থেকে পরের কয়েক দিন মাঠ পর্যায়ে ঠিক মতো চামড়া সংরক্ষণ করা হয় না। এর ফলে বড় একটা অংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এবারও সে রকম শঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া প্রতি বছর কাঁচা চামড়া প্রতিবেশী দেশে পাচার হয়ে যায়, এবারও সে রকম শঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারের কাছে আমরা প্রত্যাশা করব এই দুই ব্যাপারে যেন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরাও এবার নানারকম সংকটের মধ্যে আছে। বিশেষ করে এবার চামড়া কেনার জন্য আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা পায়নি ব্যাংক থেকে। ব্যবসা ভালো না হওয়ায় অনেক ট্যানারি মালিক আগের ঋণ ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারেননি। এবার তারা ঋণ নিতে পারেননি। ফলে তারা এবার বেশি চামড়া কিনতে পারবেন না। তা ছাড়া গত বছরের চামড়া এখনও রয়ে গেছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এসব চামড়া নিয়েও বিপাকে রয়েছে ট্যানারি মালিকরা।’

চামড়ার দাম বেশি বাড়েনি : বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৩ মে এ বছরের চামড়ার নতুন দর ঘোষণা করে। ঘোষণা অনুযায়ী গরুর লবণযুক্ত চামড়া ঢাকা মহানগরীতে ক্রয় করা হবে প্রতি বর্গফুট ৬২-৬৭ টাকায়, ঢাকার বাইরে ৫৭-৬২ টাকা। ছাগলের চামড়ার মূল্যে বলা হয়েছে খাসির চমড়া প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা, বকরির চামড়া ২২-২৫ টাকা দরে সারা দেশে ক্রয় করা হবে। প্রতি বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঈদুল আজহার আগে চামড়া শিল্প মালিক সমিতি, ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন আর মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে দাম ঠিক করে। মূলত গরুর চামড়া বর্গফুট হিসেবে মাপা হয়। ঢাকায় ১ বর্গফুট বড় চামড়ার দাম জেলার চেয়ে বেশি ধরা হয়, কারণ ঢাকায় পরিবহন ও সংরক্ষণ খরচ কম। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ার জন্য আলাদা দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে এই দামে চামড়া কেনা হয় না মাঠ পর্যায়ে। মফস্বলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রায়ই ৩০-৪০ শতাংশ কম দামে চামড়া কেনে।

গত বছরের চামড়া এখনও রয়ে গেছে : গত বছরের কুরবানির প্রায় ২০-২৫ শতাংশ চামড়া অবিক্রীত থেকে গেছে বলে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছিল। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কম। বিশেষ করে ইউরোপে কৃত্রিম চামড়ার ব্যবহার বাড়ায় আর পরিবেশগত বিধিনিষেধের কারণে রফতানি চাপে। এ ছাড়া সাভারের অনেক ট্যানারির হাতে নগদ নেই, ফলে নতুন চামড়া কেনার সক্ষমতা কম। মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে লবণ না দেওয়া আর কাটাছেঁড়ার কারণে অনেক চামড়া বাতিল হয়ে যায়। ফলে লাখ লাখ পিস চামড়া এখনও গুদামে পড়ে আছে। এতে মাদরাসাগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে, আর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পরের বছর আগ্রহ হারাচ্ছে।

৬০ শতাংশ চামড়া আসে এই ঈদে : কুরবানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত খাতগুলোর একটি হচ্ছে চামড়াশিল্প। বছরের মোট কাঁচা চামড়ার ৫৫-৬০ শতাংশ আসে ঈদুল আজহার সময়। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ আরও বাড়তে পারে। তবে প্রতি বছরই চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সংরক্ষণ সংকট এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে অভিযোগ ওঠে। চামড়াশিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রফতানি খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চামড়াশিল্পে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) একাধিক নেতা জানান, দেশে প্রতি বছর এক কোটি থেকে এক কোটি ২০ লাখ পশু কুরবানি করা হয়। ঈদুল আজহায় দেশের মোট কাঁচা চামড়ার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয়। বিটিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্ল্যাহ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উল্লেখযোগ্য চাহিদা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে খাতটি এখনও তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।

তিনি বলেন, ‘চামড়া খাত এখনও অপূর্ণ সম্ভাবনার একটি বড় ক্ষেত্র। একসময় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি আয় এক বিলিয়ন ডলার ছাড়ালেও বর্তমানে তা কমে ৮০ থেকে ৯০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। দুর্বল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, অকার্যকর সাপ্লাই চেইন এবং পরিবেশসম্মত ট্যানারি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এ খাতের প্রবৃদ্ধিকে সীমিত করে রেখেছে।’

চামড়া খাতে ঋণ দিতে অনীহা : কুরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছরই চামড়া খাতের জন্য ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ খুবই কম। খেলাপি ঋণের অজুহাতে অধিকাংশ ব্যাংক নতুন ঋণ দিতে অনীহা দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত বছর ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঋণ বিতরণ হয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ৬১০ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয় ১২৫ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৪৪৩ কোটি টাকার মধ্যে বিতরণ হয় ২৭০ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে চামড়া শিল্প খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। খাতটিতে মোট ঋণের স্থিতি প্রায় ১৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে খেলাপি ঋণের হার ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

খাত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, সামগ্রিক ব্যাংক খাতের তুলনায় চামড়া শিল্পে খেলাপি ঋণের হার খুব বেশি না হলেও ব্যাংকগুলো ঢালাওভাবে খেলাপির অভিযোগ তুলে নতুন ঋণ বিতরণে অনীহা দেখাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবায়নে কার্যকর নজরদারি থাকে না।

শ্রমিকরা এখনও বঞ্চিত : এদিকে ট্যানারি শ্রমিকরা এখনও তাদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। সরকার নতুন মজুরি কাঠামো গঠন করে দিলেও আজ অবধি ট্যানারি মালিকরা সেটি বাস্তবায়ন করেনি পুরোপুরি। শুধু তাই নয়, ঈদ একেবারে নাকের ডগায় চলে আসলেও এখনও সব ট্যানারি মালিকরা বেতন-বোনাস দেননি। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘গত ইন্টেরিম সরকার যে নতুন মজুরি ঘোষণা করেছিল তা বাস্তবায়নে মালিকরা শুরু থেকেই টালবাহানা করছে। ন্যূনতম মজুরি ১৮ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হলেও মালিকরা সেটি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। মজুরি চূড়ান্ত হওয়ার পর ৫টি ধাপে ৫টি গ্রেডে মজুরি বাড়ানো হয় এবং তাতে মালিকরা সম্মতি দেয়। অথচ পরে তারা ৫টি গ্রেডে মজুরি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। মজুরি আবার রিভিউ করা হয়েছে, কিন্তু সেটিও মানছে না তারা। শ্রমিকদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। আর নারী শ্রমিকদের মজুরি আরও কম করে দিচ্ছে মালিকরা। বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তারচেয়েও পরিতাপের বিষয় হলো এখনও ঈদের বেতন-বোনাসও দেয়নি সব কারখানা মালিক। কেউ বেতন দিলে বোনাস দেয়নি। কারও দুই মাসের বেতন বাকি রয়েছে। তাই অনেক কারখানা শ্রমিককে এবার বেতন-বোনাস ছাড়াই ঈদ করতে হবে।’

কুরবানির চামড়া ব্যবস্থাপনায় কন্ট্রোল রুম চালু : এদিকে কুরবানির চামড়া যেন নষ্ট না হয় সে জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চালু হয়েছে কন্ট্রোল রুম। কুরবানির চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণে যেকোনো তথ্য, পরামর্শ ও সেবা পাওয়া যাবে এই কন্ট্রোল রুম থেকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এ কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৬১৭৩৩৮০৬৭। সার্বক্ষণিক এ কন্ট্রোল রুমটি চালু থাকবে।

আরবিএন 



  বিষয়:   কুরবানির ঈদ  চামড়া 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: