মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর বৈশ্বিক পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানে মার্কিন হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে স্বর্ণ ও রুপার বাজারে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম সাম্প্রতিক লেনদেনে কমেছে, যা বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৪ ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। একই সময়ে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে- এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শক্তিশালী হচ্ছে। আর উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন
সোমবার দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সমুদ্রে মাইন স্থাপন ও ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম ঠেকাতে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে কাতারের দোহায় চলছিল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা, যদিও দুই পক্ষই দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিও বাড়ে, ফলে বিনিয়োগকারীরা সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন হিসাব কষতে শুরু করেন।
অন্যদিকে মূল্যবান ধাতুর বাজারে সামগ্রিক পতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমে গেলে দেশের বাজারেও নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হতে পারে।
তবে এর ঠিক আগেই দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ানো হয়েছিল। সর্বশেষ সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। একইভাবে রুপার দামও বাড়ানো হয়।
এএডি/