ইসরায়েলের পরবর্তী মোসাদ প্রধান হিসেবে মেজর জেনারেল রোমান গফম্যানের নিয়োগের বিষয়টি আইনি বেড়াজাল পেরিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত ‘সিনিয়র অ্যাপয়েন্টমেন্টস অ্যাডভাইজরি কমিটি’র সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য গফম্যানের সততা ও যোগ্যতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে সুপ্রিম কোর্টে সম্পূরক মতামত জমা দিয়েছেন। খবর জেরুজালেম পোস্টের
এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট অব জাস্টস) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগামী বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যার মধ্যে তাদের চূড়ান্ত জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২ জুন বর্তমান মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়ার মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং একই দিন গফম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কর্তৃক তার সামরিক সচিব রোমান গফম্যানকে মোসাদের নতুন প্রধান হিসেবে মনোনীত করার পর থেকেই এই নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একাধিক রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। গফম্যান যখন আইডিএফ-এর ২১০তম ডিভিশনের কমান্ডার ছিলেন, তখন ‘অরি এলমাকায়েস’ নামের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে সামরিক বাহিনীর একটি গোপন ইনফ্লুয়েন্স বা প্রচারণামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে সেই কিশোরকে ‘পরিত্যক্ত’ করার এবং সামরিক তথ্য ফাঁসের এই ঘটনায় গফম্যানের সম্পৃক্ততা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে পিটিশন দাখিল করেন এলমাকায়েস নিজেই।
আদালতের নির্দেশে গত ২১ ও ২৪ মে এই নিয়োগ কমিটি এলমাকায়েস, গোয়েন্দা কর্মকর্তা চুর ওয়েক্সলার এবং স্বয়ং রোমান গফম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি ও ৫১১ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাইল পর্যালোচনা করে।
পর্যালোচনা শেষে কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য (সাবেক মোসাদ কর্মকর্তা শুলা এতান, সাবেক সিভিল সার্ভিস কমিশনার মোশে দায়ান এবং আইনজীবী তালিয়া আইনহর্ন) সর্বসম্মতভাবে জানান, গফম্যানের সততায় কোনো খুঁত পাওয়া যায়নি। উল্টো নতুন তথ্য-প্রমাণাদি তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিশ্লেষণ করে তারা জানান, এলমাকায়েস নিজেই স্বীকার করেছেন যে গফম্যানের সাথে তার কখনো সরাসরি যোগাযোগ ছিল না এবং গফম্যান তাকে চেনেন এমন কোনো প্রমাণও নেই।
তবে কমিটির চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রেসিডেন্ট আশের গ্রুনিস এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তার ভিন্নমত বহাল রেখেছেন। গ্রুনিসের মতে, ২০২২ সালের এই ঘটনায় গফম্যানের ভূমিকা ‘ত্রুটিযুক্ত’ ছিল এবং সামরিক তথ্য ফাঁসের বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা উচিত। তদন্ত চলাকালীন মোসাদ প্রধানের পদটি শূন্য না রেখে অন্তর্বর্তীকালীন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা অবশ্য চেয়ারম্যান গ্রুনিসের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, গ্রুনিস মামলার প্রধানতম প্রমাণ ৫১১ পৃষ্ঠার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাগুলো না পড়েই তার মতামত দিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারার একটি গোপন আইনি মতামত পুরো কমিটিকে না জানিয়ে কেবল গ্রুনিসকে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানোর ঘটনা নিয়েও তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চেয়ারম্যান গ্রুনিসের সংখ্যালঘু মতামত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, গফম্যানকে অযথা হয়রানি করা হয়েছে, অথচ নতুন তদন্তে কিছুই প্রমাণিত হয়নি। নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেন, সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়োগের বিরুদ্ধে করা সমস্ত আবেদন খারিজ করে দেবেন। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সাতটি ফ্রন্টে যুদ্ধ চলার এই সংকটময় মুহূর্তে’ মোসাদের শীর্ষ পদে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে যেন কোনোভাবেই বিলম্বিত করা না হয়।
/কহু