লাক্সারি স্পোর্টস কার জগতের শীর্ষ জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফেরারি বাজারে নিয়ে এলো তাদের ইতিহাসের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রিক গাড়ি। গাড়িটির মডেল দেওয়া হয়েছে ‘লুচে’। ইতালীয় ভাষায় যার অর্থ ‘আলো’। গাড়িটির বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে রেকর্ড ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি)। খবর বিবিসি নিউজের
প্রথাগত ফেরারির চেনা রূপ থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসে নতুন এই মডেলটি ডিজাইন করা হয়েছে। এটি ফেরারির ইতিহাসে প্রথম ৫ আসনবিশিষ্ট গাড়ি। অ্যাপলের সাবেক প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের ডিজাইন এজেন্সি ‘লাভফ্রম’-এর সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে গাড়িটির ডিজাইন তৈরি করেছে ফেরারি।
লুচে মডেলটি বাজারে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাড়িপ্রেমীদের মাঝে তীব্র বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এই ডিজাইনকে ‘একেবারে মাস্টারক্লাস ও যুগান্তকারী’ বলে প্রশংসা করলেও, অনেকের কাছেই এটি চরম হতাশাজনক লেগেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, জ্যাগুয়ারের মতো ফেরারিও তাদের ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড ভ্যালু ধ্বংস করে ফেলল। এই গাড়ি সরাসরি ভাঙাড়ির দোকানে ফেলার যোগ্য। অন্য একজন লিখেছেন, ইউরোপীয় লাক্সারি গাড়ি নির্মাতাদের আসলে কী হয়েছে? প্রথমে জ্যাগুয়ার, আর এখন ফেরারি!
সমালোচনার জবাবে ফেরারির চিফ ডিজাইন অফিসার ফ্ল্যাভিও মানজোনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যেকোনো নতুন আবিষ্কারের ক্ষেত্রেই সমালোচনা আসবেই। ডিজাইনটি কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় মানুষের মাঝে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে গাড়িপ্রেমীরা এর আসল সৌন্দর্য অনুধাবন করতে পারবেন।
ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা রোমে গাড়িটি উন্মোচনের সময় জানান, এই মডেলটি তৈরিতে তাদের দীর্ঘ ৫ বছর সময় লেগেছে। গাড়িটির প্রতিটি চাকায় ফেরারির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আলাদা ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। মাত্র ২.৫ সেকেন্ডের মধ্যে গাড়িটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল (৯৬ কিমি) গতি তুলতে সক্ষম। কোম্পানিটি জানিয়েছে, গাড়ির প্রতিটি কলকব্জা ও যন্ত্রাংশ তাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি, যা ভবিষ্যতে মেরামতযোগ্যতা এবং গাড়ির পুনর্বিক্রয় মূল্য নিশ্চিত করবে। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি আনলেও ফেরারি তাদের ঐতিহ্যবাহী পেট্রোল ও হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদন বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।
ল্যাম্বরগিনি এবং পোরশের মতো ফেরারির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সুপারকার ব্র্যান্ডগুলো যেখানে বাজারে মন্দা চাহিদা এবং চীনা ইভি ব্র্যান্ডগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসছে, সেখানে ফেরারি এই সাহসী পদক্ষেপ নিল। পোরশে ও ল্যাম্বরগিনি বর্তমানে ইভি ছেড়ে হাইব্রিড মডেলের দিকে বেশি ঝুঁকছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নীতি ও ইভি ক্রেতাদের ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে ফোর্ড ও ভক্সওয়াগেনের মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলোও পুনরায় পেট্রোল গাড়ির দিকে মনযোগ দিচ্ছে।
/কহু