কোরবানি ছাড়া ঈদ
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত পাঁচ সন্তানের পিতা ৪৩ বছর বয়সী ইমাদ সুহওয়েল বলছেন, বাজারে গবাদিপশুর অভাবের কারণে ঈদুল আজহা যেন তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদানই হারিয়ে ফেলেছে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর আমরা কোরবানি দিতাম। আমরা জবাই করতাম, আনন্দ করতাম, একসঙ্গে খেতাম এবং গরিবদের মাঝে বিতরণ করতাম—সেই দিনগুলো ছিল সুন্দর। আমি একটি ভেড়া কিনতাম বা বাছুরে অংশীদার হতাম।
ঈদুল আজহার ঐতিহ্যগত কোরবানি সাধারণত পরিবারের সবাইকে এক টেবিলে একত্রিত করে আনন্দ ও উষ্ণতার পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু গাজায় চলমান যুদ্ধ, ধ্বংস ও দারিদ্র্যের মধ্যে এ বছরের ঈদ অনেকের কাছেই সেই আনন্দ হারিয়েছে।
ইমাদ সুহওয়েল আরও বলেন, কোরবানি বা হজ ছাড়া ঈদুল আজহা কেমন ঈদ? এখন মানুষ কোরবানির কথাও ভাবতে পারে না। অনেকে তো দুই কেজি সবজিও কিনতে পারছেন না।
তার মতে, মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের কারণে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও গাজায় সীমিত সংখ্যক গবাদিপশু রয়েছে, তবে তার দাম এতটাই বেশি যে অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে তা কেনা সম্ভব নয়। তিনি জানান, যুদ্ধের আগে যে ভেড়ার দাম ছিল প্রায় ৪০০–৫০০ জর্ডানিয়ান দিনার (৫৬০–৭০০ ডলার), এখন একই ধরনের একটি পশুর দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬,০০০–১৭,০০০ শেকেল (প্রায় ৪,৪০০–৪,৭০০ ডলার)।
এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আগে যেখানে একটি পশুর দাম ৪০০–৬০০ ডলারের মধ্যে থাকত, এখন তা বেড়ে ৬,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে।