কোরবানির পশু নেই, তবুও ঈদুল আজহার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ফিলিস্তিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গাজার মানুষ এবারও ঈদুল আজহা পালন করছেন যুদ্ধ, ধ্বংস আর বাস্তুচ্যুত জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই। তাঁবুর ভেতর, অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন

2026-05-27T13:32:29+00:00
2026-05-27T13:32:29+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কোরবানির পশু নেই, তবুও ঈদুল আজহার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ফিলিস্তিনিরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১:৩২ পিএম 
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহতে গবাদিপশুর বাজার। এখানে কোরবানির একটি ভেড়ার দাম ৪ হাজার ডলারেরও বেশি। ছবি : আল-জাজিরা
গাজার মানুষ এবারও ঈদুল আজহা পালন করছেন যুদ্ধ, ধ্বংস আর বাস্তুচ্যুত জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই। তাঁবুর ভেতর, অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটানো পরিবারগুলোর জন্য ঈদ এখন আর আগের মতো আনন্দের উৎসব নয়—বরং বেঁচে থাকার সংগ্রামের মাঝেও এক টুকরো আশা।

গাজা সিটির এক তাঁবুতে ৬৮ বছর বয়সী ইতিদাল হামদান তার টানা তৃতীয় ঈদ কাটাচ্ছেন বাস্তুচ্যুত অবস্থায়। ইসরায়েলের টানা হামলার কারণে তিনি নিজের বাড়ি হারিয়েছেন, আর তার স্বামীও গত বছর এক হামলায় নিহত হন।

তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, আমি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বপ্ন দেখেছি হজে যাওয়ার। আমার স্বামীও সেই ইচ্ছা পূরণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এই গল্প শুধু একজন মানুষের নয়— গাজার অসংখ্য পরিবারের বাস্তবতা। যাদের অনেকের জন্য ঈদ মানে এখন প্রিয়জন হারানোর শোক, আবার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বেঁচে থাকার নতুন করে লড়াই শুরু করা।

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে গাজায় ঈদের আমেজ পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁবুতে ও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন মানুষ। ছবি : আল-জাজিরা

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে গাজায় ঈদের আমেজ পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁবুতে ও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন মানুষ। ছবি : আল-জাজিরা


কোরবানি ছাড়া ঈদ

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত পাঁচ সন্তানের পিতা ৪৩ বছর বয়সী ইমাদ সুহওয়েল বলছেন, বাজারে গবাদিপশুর অভাবের কারণে ঈদুল আজহা যেন তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদানই হারিয়ে ফেলেছে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর আমরা কোরবানি দিতাম। আমরা জবাই করতাম, আনন্দ করতাম, একসঙ্গে খেতাম এবং গরিবদের মাঝে বিতরণ করতাম—সেই দিনগুলো ছিল সুন্দর। আমি একটি ভেড়া কিনতাম বা বাছুরে অংশীদার হতাম। 

ঈদুল আজহার ঐতিহ্যগত কোরবানি সাধারণত পরিবারের সবাইকে এক টেবিলে একত্রিত করে আনন্দ ও উষ্ণতার পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু গাজায় চলমান যুদ্ধ, ধ্বংস ও দারিদ্র্যের মধ্যে এ বছরের ঈদ অনেকের কাছেই সেই আনন্দ হারিয়েছে।

ইমাদ সুহওয়েল আরও বলেন, কোরবানি বা হজ ছাড়া ঈদুল আজহা কেমন ঈদ? এখন মানুষ কোরবানির কথাও ভাবতে পারে না। অনেকে তো দুই কেজি সবজিও কিনতে পারছেন না। 

তার মতে, মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের কারণে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও গাজায় সীমিত সংখ্যক গবাদিপশু রয়েছে, তবে তার দাম এতটাই বেশি যে অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে তা কেনা সম্ভব নয়। তিনি জানান, যুদ্ধের আগে যে ভেড়ার দাম ছিল প্রায় ৪০০–৫০০ জর্ডানিয়ান দিনার (৫৬০–৭০০ ডলার), এখন একই ধরনের একটি পশুর দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬,০০০–১৭,০০০ শেকেল (প্রায় ৪,৪০০–৪,৭০০ ডলার)।

এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আগে যেখানে একটি পশুর দাম ৪০০–৬০০ ডলারের মধ্যে থাকত, এখন তা বেড়ে ৬,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে।

ফাওজি হামদান গত বছর কোরবানির পরিবর্তে একটি ক্যানজাত মাংস ব্যবহার করেছিলেন। ছবি : আল-জাজিরা

ফাওজি হামদান গত বছর কোরবানির পরিবর্তে একটি ক্যানজাত মাংস ব্যবহার করেছিলেন। ছবি : আল-জাজিরা



সূত্র : আল-জাজিরা 

/ইউএমএইচ


  বিষয়:   কোরবানি  পশু  ঈদুল আজহা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: