গরু বা খাসির ভুঁড়ি রান্না খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হলেও এর সবচেয়ে ঝামেলার অংশ হলো পরিষ্কার করা। অনেকেই অতিরিক্ত সময় লাগা বা দুর্গন্ধের কারণে এটি রাঁধতে চান না। তবে চুন ছাড়াই কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব অল্প সময়েই ভুঁড়ির দুর্গন্ধ ও কালচে ময়লা দূর করা সম্ভব।
লেবুর রসের ব্যবহার :
একটি বড় পাত্রে পর্যাপ্ত গরম পানি নিয়ে তাতে ২টি পাকা লেবুর রস মিশিয়ে ভুঁড়ির বড় টুকরোগুলো ১-২ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে দুর্গন্ধ কমে ময়লা নরম হয়ে যাবে এবং পাত্র থেকে তুলে স্টিলের চামচ বা ছুরি দিয়ে হালকা ঘষলেই কালো আস্তরণ সহজে উঠে আসবে।
লবণ পানিতে সেদ্ধ :
লবণ পানিতে সেদ্ধ করেও ভুঁড়ি পরিষ্কার করা যায়। ভুঁড়ির টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানিতে পর্যাপ্ত লবণ দিয়ে ১০-১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিলে শক্ত ময়লা ও দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে যায়; এরপর নামিয়ে কাটিং বোর্ডে রেখে ছুরি বা হাত দিয়ে আলতো করে চেঁছে কালচে অংশগুলো পরিষ্কার করে ফেলা যায়।
খুব অল্প সময় গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখা :
তৃতীয় পদ্ধতিটি হলো খুব অল্প সময় গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখা। এক্ষেত্রে ভুঁড়ি স্বাভাবিক পানিতে ধুয়ে নেওয়ার পর ফুটন্ত গরম পানিতে টুকরোগুলো মাত্র ১০–১৩ সেকেন্ড ডুবিয়ে রেখেই দ্রুত তুলে ফেলতে হবে, কারণ বেশি সময় রাখলে ভুঁড়ি অতিরিক্ত নরম হয়ে ময়লা আটকে যেতে পারে। পানি থেকে তোলার পরপরই চামচ বা ছুরি দিয়ে উপরের ময়লা চটজলদি পরিষ্কার করে ফেলা সম্ভব।
ভিনেগার ও লবণের মিশ্রণে :
সর্বশেষ কার্যকর উপায়টি হলো ভিনেগার ও লবণের মিশ্রণ। একটি বড় পাত্রে পানি নিয়ে তাতে পরিমাণমতো ভিনেগার ও লবণ মিশিয়ে ভুঁড়ি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে দুর্গন্ধ দূর হয় এবং ময়লা আলগা হয়ে যায়। এরপর ভুঁড়ি বের করে এক কোণা থেকে হাত দিয়ে আলতো করে টেনে বা ঘষে কালচে অংশগুলো তুলে ফেলে শেষে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই ভুঁড়ি রান্নার জন্য একদম প্রস্তুত হয়ে যায়।
সময়ের আলো/জেডি