ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবেন না ট্রাম্প, উল্টো ওমানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে তীব্র কূটনৈতিক

2026-05-28T11:16:41+00:00
2026-05-28T11:16:41+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবেন না ট্রাম্প, উল্টো ওমানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১১:১৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে তীব্র কূটনৈতিক আলোচনা চললেও, তেহরানের ওপর থেকে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত বুধবার হোয়াইট হাউসে এক ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালী সচল করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন তার কঠোর অবস্থান থেকে একচুলও নড়বে না। একই বৈঠকে উপস্থিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু অগ্রগতি এবং পারস্পরিক আগ্রহ দেখা গেছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত অগ্রগতি জানা যাবে। তবে মূল কথা হলো— ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।’

আমেরিকার এই অনমনীয় অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান গত সোমবার কাতারে গিয়েছেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ওয়াশিংটনের নির্দেশে কাতারে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ফ্রিজড বা অবরুদ্ধ তহবিল ছাড় করানোর বিষয়ে আলোচনা করতে তাদের এই সফর। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, আলোচনার টেবিলে বসার অন্যতম শর্ত বা আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে এই অর্থ ছাড় করতে হবে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্রমাগত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে বিশ্বব্যাংকিং ব্যবস্থা (সুইফট) থেকে বিচ্ছিন্ন ইরান তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগছে এবং বিভিন্ন দেশে তাদের প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের নিজস্ব রাজস্ব আটকে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বুধবার এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর কর বা ট্রানজিট ফি আরোপের একটি পরিকল্পনা করছে— এমন খবরের ভিত্তিতে ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ওমান এই বিষয়ে ইরানের সাথে হাত মেলায়, তবে ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হবে।

ট্রাম্প বলেন, "এই প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কোনো একক দেশ এর নিয়ন্ত্রণ পাবে না। ওমানকেও বাকি সবার মতো আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।" ওমান আমেরিকার একটি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক মিত্র হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের এমন আকস্মিক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের কাছে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকের খসড়া পাঠানো হয়েছে। সেই খসড়া অনুযায়ী, ইরান যদি এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনে, তবে আমেরিকা ওই অঞ্চল থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করবে। এই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ওমান ও ইরানের যৌথ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী প্রস্তাবনার মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি আলী বাঘেরি কানি বলেন, ‘যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালী পারাপারের নিয়মকানুন আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হবে।’ তবে ইরান এই দাবি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে এই খসড়া প্রস্তাবের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্ট ডিরেক্টর আলী বায়েজ মনে করেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ইরান লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্তও জুড়ে দিতে পারে, যা ইসরায়েল একেবারেই চাচ্ছে না। ইসরায়েল মূলত এই মুহূর্তে কোনো চুক্তি না হওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই পূর্ণাঙ্গ ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধে টমাহক ক্রুজ মিসাইল, প্যাট্রিয়ট এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আমেরিকার প্রধান অস্ত্রভাণ্ডার যেভাবে খালি হচ্ছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ যেভাবে শেষ হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে চীনের সাথে কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধ বাঁধলে আমেরিকার বড় ধরনের সামরিক দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। 


/কহু


  বিষয়:   ইরান  ওমান  যুক্তরাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: