ওমানে বোমা হামলার ট্রাম্পের হুমকি, উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘আঘাতের ঢেউ’ তুলবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মিত্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানকে সামরিক শক্তি

2026-05-28T15:47:57+00:00
2026-05-28T15:47:57+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ওমানে বোমা হামলার ট্রাম্পের হুমকি, উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘আঘাতের ঢেউ’ তুলবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মিত্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানকে সামরিক শক্তি প্রয়োগে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ নজিরবিহীন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর সমগ্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও গভীর কূটনৈতিক ধাক্কা (শকওয়েভ) তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক বক্তব্যকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ‘বিস্ময়কর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক সমীর পুরি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওমানকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি অত্যন্ত নজিরবিহীন এবং স্তম্ভিত করার মতো। তিনি মনে করিয়ে দেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের আকস্মিক যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর আগে, ওমানই ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার মূল সেতুবন্ধন এবং প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ।

ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রতি একটি খসড়া চুক্তি ফাঁসের দাবি করা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল- মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রত্যাহারের শর্তে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ফি আদায় করবে। হোয়াইট হাউসের বৈঠকে এক সাংবাদিক এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত উগ্র ভাষায় তা নাকচ করে বলেন, এই প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং কেউ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। ওমানকেও বাকি সবার মতো ভদ্র আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। তারা বিষয়টি ভালো করেই বোঝে এবং তারা ঠিক হয়ে যাবে।

প্রথম দিকে অনেকে এটিকে ট্রাম্পের ‘মুখের ভুল’ বা ইরানের জায়গায় ভুল করে ওমানের নাম বলেছেন বলে ধরে নিলেও, পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো রকম পরিমার্জন ছাড়াই ট্রাম্পের এই বক্তব্যের ভিডিও ও লিখিত অনুলিপি (ট্রান্সক্রিপ্ট) প্রকাশ করায় ওমান সরকারের পাশাপাশি আরব বিশ্বের মিত্রদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক সমীর পুরি বলেন, ওমান বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত থেকে নিজেদের দূরে রেখে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে এবং সবসময় শান্তির পক্ষে মধ্যস্থতা করেছে। গত বছর কাতারে হামাসের আলোচনাকারীদের ওপর ইসরায়েলি হামলার পর থেকে বোঝা যাচ্ছিল, চলমান যুদ্ধগুলোতে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। কিন্তু মার্কিন প্রশাসনের এই হুমকি ওমানের মতো একটি শান্তিপ্রিয় ও নিরপেক্ষ দেশের জন্য একটি মারাত্মক ভুল বার্তা।"

তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত একটি একতরফা জেদ। ইরান বা অন্য কেউ কখনোই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পাবে না। কিন্তু ওমানকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেই যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের রণকৌশল বা চিন্তাভাবনা বদলে যাবে, তেমন কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। উল্টো এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য পারস্য উপসাগরে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য আরব মিত্রদের কাছে একটি অত্যন্ত নেতিবাচক ও বিপজ্জনক বার্তা পাঠাল, যা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

/কহু


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: