কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়ার পরিচয় বহন করে। সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ঈদুল আজহার নির্ধারিত সময়ে কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে কখনো অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো কারণে সময়মতো কোরবানি আদায় করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী শরিয়ত কিছু করণীয় নির্ধারণ করে দিয়েছে।
যদি কারও ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি পশু কিনতে বা কোরবানি করতে না পারেন, তাহলে একটি কোরবানিযোগ্য ছাগলের সমপরিমাণ অর্থ সদকা করতে হবে। শুধু তওবা করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না; বরং দরিদ্রদের মাঝে সেই অর্থ দান করাও জরুরি।
কেউ যদি কোরবানির জন্য পশু কিনে রাখেন, কিন্তু অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে সময়মতো জবাই করতে না পারেন, তাহলে কোরবানির সময় শেষ হওয়ার পর সেই পশুটি জীবিত অবস্থায় সদকা করে দিতে হবে।
যদি কোরবানির নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পশু জবাই করা হয়, তাহলে সেই পশুর পুরো গোশত সদকা করে দিতে হবে। কোরবানিদাতা বা তাঁর পরিবারের জন্য সেই গোশত খাওয়া বৈধ হবে না। প্রয়োজনে অতিরিক্ত মূল্যও সদকা করতে হবে।
কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও তাকওয়ার শিক্ষা। তাই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি থেকে বিরত থাকা উচিত নয়।
হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য আছে, কিন্তু কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে তাদের গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’
তাই কোরবানি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ ও আল্লাহভীতির এক মহান শিক্ষা।
সূত্র : মুস্তাদরাকে হাকেম : ৩৫১৯, সুরা হজ, আয়াত : ৩৭
/এসএকে