পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ এলেই প্রতিটি পরিবারে ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের পরিমাণ ও ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রিজের ডিপ ও নরমাল চেম্বারে মাংস সংরক্ষণের নিরাপদ সময়কাল এবং নিয়ম সম্পূর্ণ এক নয়। আমেরিকার বিখ্যাত স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের এক বিশেষ প্রতিবেদন এবং হিমায়িতকরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে মার্কিন কৃষি বিভাগের ‘ইউএসডিএ’ নির্দেশিকায় এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যানুযায়ী, ফ্রিজে মাংস কতদিন ভালো থাকবে তা মূলত নির্ভর করে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার ওপর। ইউএসডিএ-এর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গরু বা খাসির মাংস ০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় হিমায়িত করা হলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট এবং ছত্রাকের মতো অণুজীবগুলো পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং মাংস নষ্টকারী এনজাইমের কার্যকলাপ ধীর হয়ে পড়ে। এই সঠিক তাপমাত্রার ডিপ ফ্রিজে কাঁচা গরুর মাংস ৪ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত এবং কিমা ও রান্না করা মাংস ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত রেখে নিরাপদে খাওয়া সম্ভব।
তবে ফ্রিজের নরমাল চেম্বারের ক্ষেত্রে এই মাংস সংরক্ষণের হিসাবটি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নরমাল চেম্বারে মাত্র ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষিত কাঁচা মাংস ৩ থেকে ৫ দিন এবং কিমা বা রান্না করা মাংস সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত ভালো রাখা যায়। এর চেয়ে বেশি সময় নরমাল ফ্রিজে মাংস রাখলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ফ্রিজে মাংস দীর্ঘদিন নিরাপদ, পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও স্বাদযুক্ত রাখতে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। প্রথমত, মাংস ফ্রিজে রাখার আগে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে, যাতে কোনো পানি বা রক্ত লেগে না থাকে। এরপর বাতাসে শুকানো সেই মাংসে সামান্য হলুদের গুঁড়া ভালো করে মিশিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে এক এক বেলার পরিমাপ অনুযায়ী আলাদা আলাদা এয়ার টাইট বক্সে সংরক্ষণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে জানিয়েছেন, ফ্রিজ থেকে একবার মাংস বের করে বরফ গলানোর পর তা কোনোভাবেই পুনরায় ফ্রিজে রাখা যাবে না, কারণ এতে মাংসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। কোনো কারণে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ চলে গিয়ে ফ্রিজের বরফ গলে গেলে সেই মাংস পুনরায় বরফ না জমিয়ে দ্রুত রান্না করে ফেলা উচিত। এ ছাড়া কিমা করা মাংস ২ দিনের মধ্যে রান্না করা এবং ডিপ ফ্রিজে রাখা মাংসের সেরা স্বাদ ও পুষ্টি বজায় রাখতে তা সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে খেয়ে ফেলা ভালো।
সময়ের আলো/টিএইচ