পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বন্দীদের ঈদ উৎসব। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে শনিবার (৩০ মে) পর্যন্ত।
ঈদের দিন সকালে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে বন্দীরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। দিনটি উৎসবমুখর করতে সকালে বন্দীদের পায়েস ও মুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
দুপুরের খাবারে ছিল সুগন্ধি পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরু ও খাসির মাংস, সালাদ, কোমল পানীয় এবং পান-সুপারি। ডেজার্ট হিসেবে পরিবেশন করা হয় মিষ্টি ও চমচম। রাতে বন্দীদের জন্য ছিল সাদা ভাত, ফ্রাই রুই মাছ ও আলুর দম।
ঈদ উপলক্ষে নারী বন্দীদের মধ্যে বিনামূল্যে মেহেদি, লিপস্টিক, হেয়ার ক্ল্যাচারসহ বিভিন্ন প্রসাধনী বিতরণ করা হয়। এছাড়া একজন শিশুবন্দীকে নতুন পোশাক প্রদান করা হয়।
ঈদের তিন দিন ধরে বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাতে আসা স্বজনদের ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে রান্না করা খাবারও বন্দীদের জন্য দিতে পারছেন, যা নিরাপত্তা যাচাই শেষে কারাগারের ভেতরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মোবাইল বুথের মাধ্যমে স্বজনদের সঙ্গে ৫ মিনিট নিরবচ্ছিন্ন কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন বন্দীরা।
শুক্রবার (২৯ মে) সাক্ষাতে আসা স্বজনরা জানান, আগের তুলনায় সাক্ষাতের সময় কিছুটা বেশি পাওয়া যাচ্ছে এবং পরিবেশও বেশ স্বাভাবিক ও মানবিক।
কারাগারের জেলার এজি মামুদ জানান, বর্তমানে কারাগারে ৩৬৪ জন বন্দী রয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন নারী। বন্দীদের মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে এবং সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কমাতে এই তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তার মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ বন্দীদের সংশোধন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
/এসএক