এবার জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর নিয়মতান্ত্রিক যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের অভিযোগে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীকে বৈশ্বিক ‘কালো তালিকায়’ (ব্ল্যাকলিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করেছেন

2026-05-30T11:58:39+00:00
2026-05-30T11:58:39+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
এবার জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম 
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি : সংগৃহীত
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর নিয়মতান্ত্রিক যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের অভিযোগে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীকে বৈশ্বিক ‘কালো তালিকায়’ (ব্ল্যাকলিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিশ্ব সংস্থার এই নজিরবিহীন ও কঠোর সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাতিসংঘ প্রধান ও তার কার্যালয়ের সাথে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে “লজ্জাজনক ও উদ্ভট” বলে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে হামাসের মতো সংগঠনের সাথে ইসরায়েলকে একই তালিকায় স্থান দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানিয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর গুতেরেসের ১০ বছরের মেয়াদ শেষ না হওয়া এবং নতুন কোনো মহাসচিব দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তারা জাতিসংঘের এই শীর্ষ পদের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, মহাসচিব গুতেরেস তাঁর মেয়াদের শেষ মাসগুলোকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তথ্যপ্রমাণহীন মনগড়া অভিযোগ তোলার কাজে অপব্যবহার করছেন। ইসরায়েল ইতিমধ্যে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ও স্পষ্টভাবে খণ্ডন করেছে।

জাতিসংঘের ‘কনফ্লিক্ট-রিলেটেড সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ২০২৬’ (যুক্তিপূর্ণ অঞ্চলে যৌন সহিংসতা সংক্রান্ত) বার্ষিক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর অন্তত ৩১টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা জাতিসংঘ সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই ও সত্যতা প্রমাণ (ভেরিফায়েড) করতে পেরেছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালেই ঘটেছে ১৩টি ঘটনা। নির্যাতনের শিকার ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ, ৭ জন নারী, ৯ জন বালক এবং ১ জন বালিকা রয়েছে, যাদের সবাইকে গাজা এবং পশ্চিম তীর থেকে আটক করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী ও কারা কর্মকর্তাদের দ্বারা সংঘটিত এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ (বিভিন্ন বস্তু ব্যবহারসহ), দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌনাঙ্গে আঘাত ও সরাসরি গুলি করা, জোরপূর্বক নগ্ন করা এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়া। বিশেষ করে পুরুষ বন্দিদের ওপর বর্বরতা ছিল চরম পর্যায়ের, যার ফলে অন্তত ৫ জন পুরুষ বন্দি দীর্ঘ সময় ধরে মলদ্বার দিয়ে তীব্র রক্তক্ষরণ ও যন্ত্রণায় ভুগেছেন এবং তাঁদের কোনো চিকিৎসা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

জাতিসংঘ প্রধান গুতেরেস তার প্রতিবেদনে ইসরায়েলের ‘নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহিতার অভাব’ তুলে ধরতে গিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ‘সদে তেইমান’ সামরিক বন্দিশালায় এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে রড বা ওই জাতীয় বস্তু দিয়ে দলবদ্ধ যৌন নির্যাতনের বহুল আলোচিত ঘটনাটি উল্লেখ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মেডিকেল রিপোর্ট থাকার পরও অভিযুক্ত পাঁচ ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চার্জ গঠন করা হয়নি এবং সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এক ক্ষুব্ধ বিবৃতিতে বলেন, যে ব্যক্তি হামাস আর ইসরায়েলকে এক তালিকায় রাখে, সে সমস্ত নৈতিক কর্তৃত্ব হারিয়েছে। মহাসচিব আরও একবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানোর পথ বেছে নিয়েছেন। এই মহাসচিবের সাথে আমাদের অধ্যায় এখানেই শেষ।

ড্যানন দাবি করেন, কালো তালিকাভুক্ত হওয়া এড়াতে গত বছরের প্রতিবেদনে দেওয়া জাতিসংঘের সমস্ত নির্দেশনা ও শর্ত মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল ইসরায়েল। তবে তার অভিযোগ, ইসরায়েল পূর্ণ সহযোগিতা করা সত্ত্বেও কোনো সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তি না জানিয়ে কেবল গণমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে গুতেরেসের একক ইচ্ছায় ইসরায়েলকে এই তালিকায় ঢোকানো হয়েছে।

ইসরায়েলি কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, জাতিসংঘের সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও মহাসচিব গুতেরেস ব্যক্তিগতভাবে চাপ দিয়ে ইসরায়েলকে এই কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, প্রমিলা প্যাটেনই গত বছর এক প্রতিবেদনে ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামাসের যৌন সহিংসতার প্রমাণ হাজির করেছিলেন, যার ভিত্তিতে হামাসকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল ও জাতিসংঘের মধ্যকার সম্পর্ক ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। এর আগে ২০২৪ সালে গুতেরেসকে ইসরায়েলে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। 


/কহু
  বিষয়:   ইসরায়েল  ইসরায়েল 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: