ল্যাটিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ‘সশস্ত্র সংঘাত’-এর অংশ হিসেবে ক্যারিবীয় সাগরে আবারও এক বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের (ইউএস সউথকম) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারের কাজে নিয়োজিত এবং একটি নির্দিষ্ট ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ দ্বারা পরিচালিত একটি সন্দেহভাজন জাহাজকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে বরাবরের মতোই এই জাহাজটির মাদক পাচার বা সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি মার্কিন সামরিক প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া মার্কিন বাহিনীর এক পোস্টে জানানো হয়েছে, ল্যাটিন আমেরিকায় নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার জেনারেল ফ্রান্সিস এল. ডনোভানের সরাসরি নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এই হামলার আগে গত শুক্রবারই গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটির কাছে কিউবান সামরিক নেতাদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন জেনারেল ডনোভান।
মাদকবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের ভিডিওগুলো সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদাকালো (ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট) ফরমেটে প্রকাশ করা হতো। তবে এবারের হামলাটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রথমবারের মতো মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার একটি রঙিন ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রের বুকে ভাসমান একটি ছোট জলযানকে লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত হানা হচ্ছে এবং মুহূর্তের মধ্যেই সেটি একটি বিশাল অগ্নিগোলকে পরিণত হচ্ছে। ভিডিওর পরের অংশে জ্বলন্ত ওই জাহাজের চারপাশে সমুদ্রের পানিতে প্রচুর পরিমাণ পার্সেল বা অজ্ঞাত বস্তু ভেসে থাকতে দেখা যায়, যা মাদক বলে ধারণা করছে মার্কিন বাহিনী।
ক্যারিবীয় সাগরে মঙ্গল ও বুধবার ঘোষিত দুটি পৃথক হামলার পর শুক্রবারের এই সর্বশেষ হামলার মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে ২০২ জনে দাঁড়িয়েছে।
/কহু