কোরবানির পশুর চামড়া বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ক্ষোভে ও হতাশায় শতাধিক চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন হেলাল মিয়া নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দুই দিন ধরে বিভিন্ন আড়ত ও ক্রেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিতাস নদীতে চামড়াগুলো ভাসিয়ে দেন তিনি।
শনিবার (৩০ মে) আখাউড়া উপজেলার আমোদাবাদ এলাকার তিতাস নদীর পাড়ে বিপুল পরিমাণ কোরবানির চামড়া ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চামড়াগুলো বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজারের ব্যবসায়ী হেলাল মিয়ার।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হেলাল মিয়া জানান, এক আড়তদারের দেওয়া আশ্বাসে তিনি এবার ২০০ টাকা পিস হিসেবে ১২৫টি চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু চামড়া কেনার পর ওই আড়তদার তা নিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে দুই দিন ধরে অন্য ক্রেতা খোঁজার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। চামড়াগুলো নষ্ট হতে থাকায় বাধ্য হয়ে ১০৫টি চামড়া তিনি নদীতে ফেলে দেন এবং বাকি ২০টি চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন। এই ঘটনায় তার নগদ ২৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুস ছাত্তার মিয়া এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। জাতীয় সম্পদ ও গরিবের হক হিসেবে পরিচিত এই চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের দ্রুত ও সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া উচিত।
সময়ের আলো/জেডি