কোরবানির ঈদ এলেই প্রায় প্রতিটি বাসায় গরু বা খাসির মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। একসঙ্গে বেশি মাংস রাখার ফলে অনেক সময় ফ্রিজ অতিরিক্ত লোডে পড়ে, ঠান্ডা কমে যায়, বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। ভুলভাবে সংরক্ষণ করলে মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে ফ্রিজের ওপর চাপ কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব, পাশাপাশি মাংসও ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
ঈদের আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করুন
ঈদের আগে ফ্রিজ ও ফ্রিজার ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। পুরোনো বা অপ্রয়োজনীয় খাবার সরিয়ে ফেললে নতুন মাংস রাখার জন্য জায়গা তৈরি হয় এবং ঠান্ডা বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। অপরিষ্কার ফ্রিজে ব্যাকটেরিয়া ও দুর্গন্ধ তৈরি হয়ে খাবারের মান নষ্ট করতে পারে।
গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না
কোরবানির পর অনেকেই গরম বা তাজা মাংস সরাসরি ফ্রিজে রাখেন, যা কম্প্রেসরের ওপর চাপ ফেলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়িয়ে দেয়। তাই মাংস কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তারপর সংরক্ষণ করা উচিত।
ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করুন
বড় প্যাকেটের বদলে রান্নার প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে মাংস রাখলে ব্যবহার সহজ হয় এবং ফ্রিজের ভেতরে ঠান্ডা বাতাস চলাচলও ভালো থাকে।
ফ্রিজ অতিরিক্ত ভরাট করবেন না
ফ্রিজ পুরোপুরি গাদাগাদি করে ভরে ফেললে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এতে ফ্রিজকে বেশি সময় চালাতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজ ২/৩ অংশ পর্যন্ত ভরা থাকাই সবচেয়ে ভালো।
সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখুন
ফ্রিজ সাধারণত ৩-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ফ্রিজার মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা সবচেয়ে কার্যকর। অতিরিক্ত কম তাপমাত্রা দিলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
বারবার ফ্রিজ খোলা এড়িয়ে চলুন
ঈদের সময় ফ্রিজ বারবার খোলা হলে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায়, ফলে কম্প্রেসরকে আবার বেশি কাজ করতে হয়। প্রয়োজন একসঙ্গে বের করে নেওয়া ভালো।
ফ্রিজের পেছনে জায়গা রাখুন
ফ্রিজ দেয়ালের একদম গায়ে লাগিয়ে রাখলে তাপ বের হতে পারে না। অন্তত ২ ইঞ্চি জায়গা রাখা উচিত, যাতে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
লোডশেডিংয়ের সময় ফ্রিজ না খোলাই ভালো
বিদ্যুৎ চলে গেলে বারবার ফ্রিজ খোলা ঠান্ডা দ্রুত নষ্ট করে। ফ্রিজ বন্ধ রাখলে অনেক সময় খাবার দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকে।
দরজার রাবার ঠিক আছে কিনা দেখুন
ফ্রিজের দরজার রাবার ঢিলা হলে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায়, এতে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
ডিপ ফ্রিজে ‘ফাস্ট কুলিং’ ব্যবহার করুন
ডিপ ফ্রিজে এই অপশন থাকলে একসঙ্গে বেশি মাংস রাখার সময় এটি ব্যবহার করলে দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং সংরক্ষণ ভালো হয়।
সঠিকভাবে এসব নিয়ম মেনে চললে ঈদের সময় ফ্রিজে অতিরিক্ত মাংস রেখেও বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আরবিএন