মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর অধিকাংশই পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে ইরান। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিএনএনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়া বেশিরভাগ টানেলের প্রবেশপথ তেহরান ইতোমধ্যে পুনরায় খুলে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শেষ হওয়ার সাত সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ইরান ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি ক্ষতিগ্রস্ত বা অবরুদ্ধ টানেল প্রবেশপথের মধ্যে অন্তত ৫০টি পুনরায় চালু করেছে।
যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন ও ইসরায়েলের বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করতে টানেলের প্রবেশমুখ, সংযোগ সড়ক এবং উৎক্ষেপণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন করে কার্যক্রম অচল করে দেওয়া।
তবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান দ্রুতগতিতে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে বুলডোজার, ফ্রন্ট-এন্ড লোডার এবং ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানো, টানেল পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের কাজ চলছে।
বিশেষ করে দেজফুল অঞ্চলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে পাঁচটি প্রবেশপথের মধ্যে চারটিকেই পুনরায় ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল ও টেকসই। ফলে মার্কিন-ইসরায়েলের হামলা ইরানের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পেরেছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর দ্রুত পুনরুদ্ধার ইরানের সামরিক অবকাঠামোর স্থায়িত্ব এবং সংকট-পরবর্তী পুনর্গঠন সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
/ইউএমএইচ