যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক এবং দুই পক্ষই একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।
রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, তার কাছে এমন নিশ্চয়তা রয়েছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তার ভাষায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তারা এতে রাজি হয়েছে, এবং এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হলে অন্য বিকল্পও খোলা রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো যখন জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে একটি সংশোধিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে আগের কাঠামোর তুলনায় আরও কঠোর শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিক করা।
তবে এ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চায় চুক্তির অংশ হিসেবে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা হোক। এছাড়া তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার শর্তও প্রত্যাখ্যান করেছে।
আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান দাবি করেছে, চূড়ান্ত চুক্তিতে লেবাননের পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, বিশেষ করে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে এবং চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও আলোচনা প্রয়োজন।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা এখনো বিবেচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী নিয়েও উত্তেজনা অব্যাহত আছে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, এবং এখানে কোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
/ইউএমএইচ