যশোরের চৌগাছায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেফতারের পর কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় গুলি করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি আজ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটির কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলায় অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
মামলায় তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপারসহ মোট আটজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, আর বাকি পাঁচজন এখনও পলাতক।
আরও পড়ুন
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর বিচার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। সে সময় আটক আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১৬ সালের আগস্টে চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে একটি সাজানো মামলায় আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের আদালতে হাজির না করে কয়েক দিন আটক রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা দেখিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আহত হওয়ার পরও ভুক্তভোগীদের যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়া চালানো হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকায় শেষ পর্যন্ত তাদের পা অপসারণ করতে হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মানবাধিকার ও বিচারিক জবাবদিহির প্রশ্নে আলোচিত এই মামলাটি শুরু থেকেই ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে।
এএডি/