টেলিভিশন দুনিয়ার পরিচিত অভিনেত্রী মৌলি দত্ত মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। শনিবার (৩০ মে) আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার বন্ধুরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়িতে ফিরেছেন এবং শারীরিকভাবে আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও এখনও চরম মানসিক ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজকাল ডট ইনকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে মৌলি দত্ত নিজে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পেশাগত কাজের তীব্র অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত মানসিক চাপের কারণেই তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তিনি স্পষ্ট করেন, অভিনয়জীবনে আগের মতো এখন আর নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না এবং বর্তমানে যে প্রকল্পে কাজ করছেন, সেখানেও কাজের দিন বা শিডিউল খুবই কম। অথচ কলকাতায় একা থাকার খরচ এবং নিজের ফ্ল্যাটের ইএমআইসহ যাবতীয় পারিবারিক ও আর্থিক দায়ভার তাকে একাই সামলাতে হয়, যা তার ওপর বড় ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিল।
অভিনেত্রী উল্লেখ করেন, কাজের জন্য স্টুডিওপাড়ার বিভিন্ন জায়গায় ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করলেও কোথাও থেকে আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছিলেন না। অথচ এতদিন তিনি মূলত বিভিন্ন সিরিয়ালে গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক চরিত্রেই সফলভাবে অভিনয় করে এসেছেন।
ঘটনার দিন কাজের তীব্র হতাশার পাশাপাশি তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গেও একচোট মনোমালিন্য হয়েছিল। ফলে সব মিলিয়ে নিজেকে সমাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ও একা মনে হওয়ায় তিনি গভীর অভিমান থেকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কেনা ঘুমের ওষুধের পুরো পাতাটি একসঙ্গে খেয়ে ফেলেন।
মৌলি তার সাক্ষাৎকারে দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের প্রেমঘটিত কারণ ছিল না, বরং ক্যারিয়ারের হতাশাই ছিল একমাত্র মূল প্রভাবক। বর্তমানে নিজের এই অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্তের জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে বন্ডে সই করে তিনি ইতিমধ্যে কলকাতার বাসায় ফিরে এসেছেন এবং এই বিপদের দিনে কে প্রকৃত বন্ধু আর কে নয়, সেটিও ভালোমতো চিনতে পেরেছেন। পশ্চিমবঙ্গের কাটোয়ায় বসবাসরত তার পরিবারের সদস্যরা শুরুতে বিষয়টি না জানলেও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর উদ্বিগ্ন হয়ে মৌলিকে দ্রুত গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, আত্মহত্যার চেষ্টার ঠিক আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৌলি একটি আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘ভাবতেই অবাক লাগে আমি তার প্রথমও হতে পারিনি, শেষও হতে পারিনি। আমার আগেও তার কেউ ছিল, আমার পরেও তার কেউ থাকবে। মাঝখান থেকে আমার জীবন শেষ।’
ওই রহস্যময় পোস্টের কারণে সামাজিক মাধ্যমে তার প্রেমঘটিত সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও অভিনেত্রী তা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার এখন কোনো প্রেমের সম্পর্কের চেয়ে বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত ও ভালো কাজের সুযোগ পাওয়া সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
সময়ের আলো/টিএইচ