‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’ খ্যাত গায়িকা আর নেই

বিনোদন ডেস্ক

আনন্দ সময়

উপমহাদেশের সংগীতজগতের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিয়েছেন কালজয়ী হিন্দি গান ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’ কিংবা জনপ্রিয়

2026-06-01T17:17:53+00:00
2026-06-01T17:17:53+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আনন্দ সময়
‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’ খ্যাত গায়িকা আর নেই
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৫:১৭ পিএম 
কিংবদন্তি প্লেব্যাক গায়িকা সুমন কল্যাণপুর।
উপমহাদেশের সংগীতজগতের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে বিদায় নিয়েছেন কালজয়ী হিন্দি গান ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’ কিংবা জনপ্রিয় বাংলা গান ‘মনে করো আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে’ খ্যাত কিংবদন্তি প্লেব্যাক গায়িকা সুমন কল্যাণপুর। 

রোববার (৩১ মে) রাতে মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে এই প্রখ্যাত সংগীতশিল্পীর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। 

পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সুমন কল্যাণপুর প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকার পর রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে নিজ বাসভবনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো ভারতের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথিতযশা এই শিল্পীর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তার সুরেলা কণ্ঠ ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে চিরকাল এক অনন্য ও বিশেষ অবদান রেখে গেছে।’

কিংবদন্তি এই গায়িকা মূলত গত শতকের ষাট ও সত্তরের দশকে চমৎকার সব গান উপহার দিয়ে পুরো উপমহাদেশজুড়ে ব্যাপক ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার গাওয়া ১৯৬৮ সালের ‘ব্রহ্মচারী’ চলচ্চিত্রের ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’, ১৯৬৫ সালের ‘জব জব ফুল খিলে’ সিনেমার ‘না না কারতে প্যায়ার’ এবং ১৯৬৪ সালের ‘রাজকুমার’ ছবির ‘তুমনে পুকারা অর হাম চলে আয়’ গানগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি শ্রোতার মনে তাঁকে আজীবন এক স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। নিজের দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন।

সংগীত বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, জীবদ্দশায় সুমন কল্যাণপুর বাংলা ও হিন্দিসহ মোট ১১টি ভিন্ন ভাষায় প্রায় ৭৪০টি গান গেয়েছেন। এর মধ্যে উপমহাদেশের আরেক কিংবদন্তি গায়ক মোহাম্মদ রফির সঙ্গেই গেয়েছেন ১৪০টি কালজয়ী দ্বৈত গান। চলচ্চিত্রের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তুমুল সফল হওয়ার পাশাপাশি ক্লাসিক্যাল ভজন ও গজল পরিবেশনাতেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। তাঁর অত্যন্ত নরম ও সুরেলা কণ্ঠের কারণে অনেক সময় শ্রোতা ও সমালোচকেরা তাকে সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তুলনা করতেন, যদিও সুমন কল্যাণপুর নিজে বিনম্র চিত্তে এই তুলনা সবসময়ই অস্বীকার করে এসেছেন।

প্রয়াত এই শিল্পী ২০২২ সালের এক ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকারে লতা মঙ্গেশকরকে নিজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং পরম শ্রদ্ধেয় বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন যে, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাদের দুই জনের কণ্ঠে একটি চমৎকার দ্বৈত গান রেকর্ড হয়েছিল এবং এরপর থেকে প্রতিবার দেখা হলেই লতা মঙ্গেশকর তার সঙ্গে একজন প্রকৃত বন্ধুর মতোই আচরণ করতেন। পারিবারিক জীবনে সুমন কল্যাণপুর একমাত্র কন্যা চারুকে রেখে গেছেন এবং আজ সোমবার মুম্বাইয়ের স্থানীয় শ্মশানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আনন্দ সময়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: