ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্র শাহ’র এক মন্তব্য ঘিরে কাঠমান্ডুর রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ওই মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হওয়ার পর, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটির সরকার।
সম্প্রতি নেপালের পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন দেশটির তরুণ প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। কালাপানি, লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখ সীমান্ত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি জানতে পেরেছেন যে কেবল ভারতই নেপালের জমি দখল করেনি, নেপালও ভারতের জমি দখল করেছে। এই সীমান্ত বিরোধ মেটাতে তিনি যুক্তরাজ্যের মধ্যস্থতার আহ্বানও জানান।
বালেন্দ্র শাহ’র এমন মন্তব্যের পরপরই নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলগুলো পার্লামেন্টের রেকর্ড থেকে এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করে, প্রধানমন্ত্রী কোনো রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড দখলের কথা বোঝাননি, বরং নদী অববাহিকার কারণে সৃষ্ট ‘ক্রস-বর্ডার অকুপেশন’ বা নাগরিকদের আন্তঃসীমান্ত জমি ব্যবহারের কথা বলেছেন।
১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩৭২ বর্গকিলোমিটারের কালাপানি অঞ্চলটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভারত বরাবরই এই অঞ্চলকে তাদের উত্তরাখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। সম্প্রতি এই রুট দিয়ে কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রা ঘোষণা করায় নেপাল তীব্র আপত্তি জানায়।
/ইউএমএইচ