পল্লবীর আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচার শুরুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তি। প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে তার নাম উল্লেখ করে অপরাধের দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করলেও তদন্তকারীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণে ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় সোহেল রানা আদালতে দাবি করে যে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের সঙ্গে ডলার নামের একজন জড়িত। এমনকি তাকে অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলেও দাবি করে সে। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এ বক্তব্যের পক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডলার পল্লবী এলাকারই বাসিন্দা। অভিযুক্ত সোহেল রানার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল স্থানীয় একটি গ্যারেজকে কেন্দ্র করে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তিনি অটোরিকশা চালাতেন এবং মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
তবে তদন্তে ডলারের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ঘটনার সময় তার অবস্থান, ডিজিটাল তথ্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করেও তাকে ঘটনাস্থলের সঙ্গে যুক্ত করার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোতে সোহেল রানা কখনো ডলারের নাম উল্লেখ করেনি। এমনকি তার স্ত্রীও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। ফলে বিচারিক পর্যায়ে এসে হঠাৎ এই দাবি তোলার বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখছেন তারা।
এদিকে ডলারের পরিবারের পক্ষ থেকেও হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছেন। তবে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষেই তারা অবস্থান নেবেন।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে এবং বর্তমানে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এএডি/